স্থূলতা কি শরীরের অন্দরে ঘাতক হয়ে উঠছে? ওজন নিয়ে চিকিৎসকদের এই সতর্কবার্তা না শুনলে পস্তাবেন!

স্থূলতা কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা নয়, এটি সরাসরি শরীরের ভেতরে বাসা বাঁধা একটি নীরব ঘাতক রোগ। সাম্প্রতিক ‘সেহাত সংবাদ ২০২৬’ শীর্ষক স্বাস্থ্য সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছেন দেশের নামী চিকিৎসকরা। এইমসের জেরিয়াট্রিক মেডিসিনের প্রাক্তন অধ্যাপক এবং অ্যাপোলো হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. প্রসূন চ্যাটার্জী জানিয়েছেন, ওজন বা বিএমআইয়ের দিকে তখনই নজর দেওয়া হয় যখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। অথচ এর পরিণাম মারাত্মক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থূলতা কেবল একটি জীবনযাত্রাজনিত সমস্যা নয়, এটি মেটাবলিক এবং প্যাথলজিক্যাল অবস্থার এক বিপজ্জনক মিশ্রণ। পুরুষদের ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা দ্রুত বাড়ে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ওজনের কারণে মানুষের সামগ্রিক আয়ু এবং স্বাস্থ্যকাল প্রায় ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
ডা. বিবেক বিন্ডালসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্থূলতা একটি বহুমাত্রিক কারণজনিত সমস্যা। এর পেছনে জিনগত ত্রুটি, ভুল খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং স্ক্রিন টাইম বৃদ্ধির বড় ভূমিকা রয়েছে। বিগত ৩০ বছরে মানুষের খাদ্যা হজম করার ক্ষমতা পরিবর্তিত হয়েছে। খাবারের পুষ্টি বা রাসায়নিকের প্রভাবে শরীরে ফ্যাট ও গ্লুকোজের শোষণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা পরবর্তীতে ফ্যাটি লিভার এবং কিডনিতে চর্বি জমার মতো মারাত্মক রোগ ডেকে আনে।
বিশেষ করে ভারতীয়দের শরীরের অভ্যন্তরে ‘ভিসারাল ফ্যাট’ বা পেটের ভেতরের চর্বির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি থাকে। এর ফলে অনেক সময় শরীরের সাধারণ বিএমআই বা ওজন ঠিকঠাক থাকলেও ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মতো রোগ জাঁকিয়ে বসার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে আশার কথা হলো, বর্তমান জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা অনেক দ্রুত বাড়ছে। ১৪-১৫ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীরাও এখন জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে এবং ফিটনেস নিয়ে সচেতন হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, বয়স ও শরীরের লক্ষণ বুঝে সময়মতো সতর্ক না হলে এই নীরব মহামারী জীবন কেড়ে নিতে পারে মুহূর্তেই।