স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করে রান্নাঘরে রক্তমাখা ছুরি ধুলেন স্বামী, নেপথ্যে কোন রহস্য?

ছেলের হাতে টাকা তুলে দিয়ে তাঁকে দুধ কিনতে বাজারে পাঠানো—সবটাই ছিল ছক। ছেলে ঘর থেকে বেরোতেই ৪ মাস ধরে জমতে থাকা আক্রোশ আর সন্দেহ বদলে গেল চরম নৃশংসতায়। স্ত্রীকে একের পর এক ছুরির কোপ মেরে খুন করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল অস্ট্রেলিয়া ফেরত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, খুনের পর চরম ঠান্ডা মাথায় প্রমাণ লোপাট করতে রান্নাঘরে গিয়ে রক্তমাখা ছুরি ধুয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে চম্পট দেন অভিযুক্ত। পাঞ্জাবের লুধিয়ানার পাকোওয়াল রোডের বিকাশ নগর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হাড়হিম করা ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক শোরগোল ও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অস্ট্রেলিয়া ফেরত স্বামীর ভয়ঙ্কর কান্ড

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম কমলদীপ কউর (৪৯)। অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বামী ৫০ বছর বয়সী রবিন্দর সিং পেশায় এক পিক-আপ ভ্যানের চালক। জানা গিয়েছে, দম্পতির ছোট ছেলে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন। তাঁকে দেখতেই সম্প্রতি দু’জনে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। তবে কমলদীপ কউর প্রায় চার মাস আগেই দেশে ফিরে এসেছিলেন। আর অভিযুক্ত রবিন্দর সিং অস্ট্রেলিয়া থেকে পাঞ্জাবে নিজের বাড়িতে ফেরেন গত ২৯ অক্টোবর।

ছেলে বাজার থেকে ফিরতেই প্রকাশ্যে বিভীষিকা

পুলিশের কাছে দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, দম্পতির বড় ছেলে গগনদীপ সিং জানান যে, শনিবার সন্ধ্যায় হঠাৎই তাঁর বাবা তাঁকে বাজার থেকে দুধ কিনে আনার জন্য পাঠান। বাবার কথা শুনে গগনদীপ বাইরে যান। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে দুধ কিনে বাড়ি ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, তাঁর বাবা অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে বাড়ি থেকে বেরোচ্ছেন।

বাবাকে এভাবে অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যেতে দেখে কারণ জিজ্ঞাসা করলে, অভিযুক্ত রবিন্দর ছেলে গগনদীপকে ঠাণ্ডা গলায় ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখার কথা বলে চম্পট দেন। গগনদীপ ভেতরে গিয়ে যা দেখেন, তাতে তাঁর হাত-পা জমে যায়। বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন তাঁর মা কমলদীপ। পেট ও ঘাড়ে একাধিক গভীর ছুরির কোপ ছিল। চিৎকার-চেঁচামেচিতে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত কমলদীপকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরকীয়ার সন্দেহ নাকি পূর্বপরিকল্পিত ছক?

খবর পেয়ে ডুগরি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং খুনে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটি বাজেয়াপ্ত করে। পুলিশের দাবি, স্ত্রীকে খুনের পর অভিযুক্ত খুব সাবধানে সেটি ধুয়ে রেখেছিলেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে তীব্র সন্দেহ করতেন রবিন্দর। সেই দীর্ঘদিনের জমানো সন্দেহ ও ক্ষোভ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

তবে ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরাচ্ছে এক প্রশ্ন—অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরার মাত্র দু’দিনের মাথায় এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড কেন ঘটল? গগনদীপের বক্তব্য অনুযায়ী, বাবা দেশে ফেরার পর দম্পতির মধ্যে প্রকাশ্যে কোনো ঝামেলা চোখে পড়েনি। ফলে পরিকল্পনা করেই অস্ট্রেলিয়া থেকে তিনি দেশে ফিরেছিলেন কি না, সেই পূর্বপরিকল্পনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্বামী রবিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় খুনের মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হেফাজতে নিয়ে জোরদার জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে।