দীপাবলির আগেই দিল্লিতে ‘বিষ-বাতাস’! জারি জরুরি ‘গ্র্যাপ-২’, পার্কিং ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

আলোকের উৎসব দীপাবলির আগেই চরম পরিবেশগত সঙ্কটের মুখে দেশের রাজধানী। দিল্লি (Delhi Air Pollution) ও সংলগ্ন এনসিআর (NCR) অঞ্চলে বাতাসের গুণমান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) আশঙ্কাজনকভাবে নেমে গিয়েছে। সোমবার দিল্লির গড় একিউআই ৩২৪ স্পর্শ করে ‘অত্যন্ত খারাপ’ বিভাগে পৌঁছতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোটা রাজধানী জুড়ে তাৎক্ষণিকভাবে ‘গ্র্যাপ-২’ (GRAP-II) বা গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যানের দ্বিতীয় পর্যায়ের বিধিনিষেধ জারি করা হলো।

কেন কার্যকর হলো ‘গ্র্যাপ-২’?

এর আগে গত ২১শে অক্টোবর বাতাসের একিউআই ২৪৪ স্পর্শ করায় দিল্লিতে প্রাথমিকভাবে ‘গ্র্যাপ-১’ কার্যকর করা হয়েছিল। সেই বিধিনিষেধের অধীনে সিএনজি ও বৈদ্যুতিক গণপরিবহনের ব্যবহার বৃদ্ধি, রাস্তার খাবারের দোকানে কয়লা ও জ্বালানি কাঠ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং ১৫ বছরের পুরনো পেট্রোল ও ১০ বছরের পুরনো ডিজেল গাড়ির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হয়।

তবে বাতাসের বিষাক্ত মাত্রা হু হু করে বাড়তে থাকায় এবার ‘গ্র্যাপ-২’-এর অধীনে আরও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

  • রাস্তায় জল ছেটানো ও ভ্যাকুয়াম সুইপিং: ধুলোবালি উড়াল ঠেকাতে নিয়মিত রাস্তা জল দিয়ে ধোওয়া এবং যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সুইপিং করা হবে।

  • ব্যক্তিগত গাড়িতে লাগাম: রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমাতে পার্কিং ফি একধাক্কায় বাড়ানো হয়েছে।

  • গণপরিবহনে জোর: মেট্রো এবং সিএনজি চালিত সরকারি বাসের ট্রিপ সংখ্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে গণপরিবহন ব্যবহার করেন।

কেন এ বছর দূষণের মাত্রা এত মারাত্মক?

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার শেষের দিকে বৃষ্টির জন্য অক্টোবরের শুরুতে আকাশ কিছুটা পরিষ্কার থাকলেও এল নিনোর (El Niño) বিশ্বব্যাপী প্রভাব এবং বায়ুর গতিবেগ কমে যাওয়ার কারণে বাতাস স্থবির হয়ে পড়েছে। তার ওপর পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশে ফসল কাটার মরশুম দেরিতে শুরু হওয়ায় খড় পোড়ানোর (Stubble Burning) মূল সময়টি এ বছর অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের শুরুতে পিছিয়ে এসেছে। ফলে সেই বিষাক্ত ধোঁয়া রাজধানীর আকাশে জমা হয়ে এক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।

সামনে কি আরও কড়া বিধিনিষেধ?

পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, দীপাবলির সময়ে যদি বায়ুর গুণমানের আরও অবনতি ঘটে, তবে বিএস-৩ (BS-III) পেট্রোল এবং বিএস-৪ (BS-IV) ডিজেল গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। এমনকি প্রয়োজনে জোর-বিজড় (Odd-Even) নিয়মের মতো ‘গ্র্যাপ-৩’ বা ‘গ্র্যাপ-৪’-এর চরম পদক্ষেপেও হাঁটতে পারে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, এমন বিপজ্জনক বায়ুদূষণের আবহেই আগামী ৭ ও ৮ই নভেম্বর দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকায় অত্যন্ত সীমিত ও নির্দিষ্ট সময়ে পরিবেশবান্ধব ‘সবুজ বাজি’ (Green Firecrackers) ফোটানোর অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে উৎসবের ওই দুই দিন নির্ধারিত সময়সূচি (সকাল ৬টা থেকে ৭টা এবং রাত ৮টা থেকে ১০টা) ছাড়া অন্য সময়ে বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।