স্কুল খুলতেই চরম ভোগান্তি! তীব্র গরমে ফের গরমের ছুটির দাবি অভিভাবকদের, কী জানাল বিকাশ ভবন?

বর্ষা এলেও স্বস্তি নেই! ক্যালেন্ডারের পাতায় স্কুল খোলার দিন এলেও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া যেন কোনোভাবেই পিছু ছাড়ছে না গ্রীষ্মের দাপট। একদিকে বর্ষার প্রবেশ, অন্যদিকে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আর্দ্রতা—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে আজ, ১৫ জুন রাজ্যে স্কুল খুলল। লম্বা গরমের ছুটির পর পড়ুয়াদের স্কুলে ফেরার আনন্দ কিছুটা হলেও ম্লান হয়ে গেছে তীব্র দাবদাহের আশঙ্কায়।
সকাল থেকেই স্কুলগামী খুদে পড়ুয়াদের নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা। তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে শিশুদের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের মনে প্রশ্ন উঠেছে, গরমের কারণে কি ফের দীর্ঘায়িত হবে ছুটি? নাকি আবারও স্কুলগুলোতে জারি হবে নতুন করে গরমের ছুটি? অতীতে বেশ কয়েকবার স্কুল খোলার পর পরিস্থিতি বিচার করে ফের ছুটি ঘোষণার নজির রয়েছে। তবে বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে ছুটির বিষয়ে কোনো নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।
এদিকে, এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিকাশ ভবন সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের সুবিধামতো স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট জেলার আবহাওয়া বিচার করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক—উভয় স্তরের স্কুলেই সকালের দিকে ক্লাস করার বা সময়সীমা পরিবর্তনের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে স্কুলগুলো তাদের নিজস্ব রুটিন তৈরি করতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
অনেকেই দাবি তুলেছেন, গরমের তীব্রতা যদি এই পর্যায়েই থাকে, তবে ক্লাসের সময়সীমা আরও কমিয়ে আনা হোক। কেউ কেউ সরাসরি আবারও গরমের ছুটি ঘোষণার আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু আপাতত রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোনো বড় সিদ্ধান্ত না আসায় ধোঁয়াশা কাটেনি। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় এখনই তাপমাত্রা কমার কোনো জোরালো পূর্বাভাস নেই। ফলে আপাতত সকালের শিফটে ক্লাস এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থার ওপরই ভরসা রাখছে শিক্ষা দপ্তর। স্কুলগুলোতেও পড়ুয়াদের পর্যাপ্ত জলপান ও ছায়াঘেরা পরিবেশে থাকার দিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। এখন দেখার পালা, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সরকার কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয় কি না।