স্কুলে ক্রমাগত ‘বুলিং’ ! শিক্ষকদের নির্লিপ্ততার জেরে ৪ তলা থেকে ঝাঁপ ৯ বছরের ছাত্রীর, ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজে তোলপাড়

জয়পুরের একটি স্কুলে মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। গত ১ নভেম্বর স্কুলের চার তলা, প্রায় ৪৮ ফুট উচ্চতা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রী। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনা ঘিরে স্কুলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন মৃত ছাত্রীর বাবা-মা। তাদের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরে স্কুলে ওই পড়ুয়া ‘বুলিং’ (হেনস্থা)-এর শিকার হচ্ছিল, কিন্তু বারবার অভিযোগ জানিয়েও শিক্ষক-শিক্ষিকারা কোনো পদক্ষেপ নেননি।
মৃত ছাত্রীর রেলিংয়ে ওঠার শিহরণ জাগানো সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। ছাত্রীর বাবা-মায়ের অভিযোগ, শিক্ষকরা সন্তানের সমস্যা নিয়ে নির্লিপ্ত ছিলেন। ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, তিনি বারবার ক্লাস টিচারকে সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু স্কুল বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
‘কো-এড স্কুল’ মন্তব্যে বিতর্ক
ছাত্রীর বাবা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একটি অভিভাবক-শিক্ষক মিটিংয়ে তিনি এক ছেলেকে তাঁর মেয়ের দিকে ইঙ্গিত করতে দেখেছিলেন। এই ঘটনা ক্লাস টিচারকে জানালে, ওই শিক্ষক উল্টে তাঁকে বলেন, মেয়েকে (মৃত ছাত্রীকে) বুঝতে হবে এটা কো-এডুকেশন (কো-এড) স্কুল। বাবা-মায়ের অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে তাঁদের সন্তান ক্রমাগত হেনস্থার শিকার হচ্ছিল।
মৃত ছাত্রীর মা জানান, প্রায় এক বছর আগে তাঁর মেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কেঁদে কেঁদে একটি ভয়েস নোট পাঠিয়েছিল, যেখানে সে বলছিল, “আমি স্কুলে যেতে চাই না…আমায় পাঠিও না।” এই রেকর্ডিং তিনি ক্লাস টিচারকে পাঠিয়েওছিলেন, কিন্তু অভিযোগ এরপরও স্কুল কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বাবা-মায়ের আরও অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে মৃত্যুর দিনও ছাত্রী প্রায় চারবার শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ করেছিল, কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জানা যায়, মৃত্যুর দিনও তাকে বুলিং করা হলে সে বাধ্য হয়ে ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। শিক্ষকরাও স্বীকার করেছেন যে ছাত্রী হেনস্থার অভিযোগ করেছিল।