স্কুলের ক্যান্টিন বা গেটের ধারে আর নয় জাঙ্ক ফুড! শিশুদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে রাজস্থান হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ

শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং উন্নত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক অত্যন্ত কঠোর ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল রাজস্থান হাইকোর্ট। স্কুলপড়ুয়াদের সুস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিন এবং স্কুলের গেটের ৫০ মিটারের মধ্যে সমস্ত ধরনের জাঙ্ক ফুড বিক্রির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। বিচারপতি অনুপ কুমার ধন্দের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান স্থূলতা (Obesity) এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাজনিত রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত জানিয়েছে, স্কুল চত্বরে উচ্চ চর্বি, চিনি ও লবণযুক্ত (HFSS) খাবার, কার্বনেটেড পানীয়, চিপস এবং ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত বেকারি পণ্য বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। এই নির্দেশ সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত খতিয়ে দেখার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রতি মাসে স্কুল পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, ২০২০ সালে নিরাপদ ও সুষম খাদ্য সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন করা হলেও বিগত ছয় বছরেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তাই এবার শিশুদের সুরক্ষায় এই নিয়ম কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সমস্ত স্কুলকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে একটি ‘স্কুল খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি কমিটি’ গঠন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আট সপ্তাহের মধ্যে ক্যান্টিনগুলিতে উপলব্ধ খাবারের ক্যালোরি, উপাদান এবং পুষ্টি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য মেনু বোর্ডে স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। এমনকি মধ্যাহ্নভোজন বা অন্যান্য পুষ্টি কর্মসূচিতেও সুষম খাদ্যাভ্যাসের মানদণ্ড মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পড়াশোনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আদালতের পক্ষ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পড়াশোনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি হলেও তা যেন কখনোই শিশুদের মৌলিক শেখার ক্ষমতার বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে আদালত। বিশেষ করে হস্তাক্ষর, বই পড়া, নোট তৈরি এবং লিখিত পরীক্ষার মতো মৌলিক অভ্যাসগুলি বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, গ্রামীণ এলাকার সরকারি স্কুলগুলিতে শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ, স্মার্ট ক্লাস, ইন্টারনেট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শৌচাগার, পানীয় জল ও খেলাধুলার পরিকাঠামো দ্রুত উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত বিষয়ে জেলা কালেক্টরদের ঝটিকা পরিদর্শন করে আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে আদালতে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।