জাপানে তৈরি হচ্ছে ভারতীয় গাড়ি! এক লাখের গণ্ডি পেরিয়ে রেকর্ড গড়ল মারুতির মেক ইন ইন্ডিয়া!

মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়ার তৈরি পাঁচটি দরজা বিশিষ্ট জনপ্রিয় জিমনি, স্টাইলিশ ফ্রংক্স এবং অত্যাধুনিক ই-ভিটারা গাড়িগুলির জাপানমুখী মোট রপ্তানির পরিমাণ এক লাখের আকাশচুম্বী গণ্ডি সফলভাবে পার করেছে। বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণকারী স্বয়ংচালিত বা অটোমোবাইল বাজার হিসেবে জাপানের সুপরিচিত খ্যাতি রয়েছে। সেই জাপানি মাটিতেই মারুতি সুজুকি প্রথম ফ্রংক্স মডেলটির আন্তর্জাতিক চালান পাঠানো শুরু করেছিল ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে। এর ঠিক পরপরই, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পাঁচ দরজা বিশিষ্ট রুক্ষ ও শক্তপোক্ত জিমনি গাড়িটির রপ্তানি শুরু হয়। পরবর্তীতে কোম্পানির সর্বকালের প্রথম ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক যান বা বিইভি (BEV) ক্যাটাগরির ই-ভিটারা গাড়িটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই বিশেষ রপ্তানি তালিকার গৌরবময় অংশীদার হয়ে ওঠে।

এই ঐতিহাসিক সাফল্য বিশ্বমঞ্চে সুসংহত মোটর ভেহিক্যাল জায়ান্ট সুজুকির জন্য একটি প্রধান গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বা বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে ভারতের প্রকৃত অবস্থানকে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলেছে। বিশেষ করে উল্লেখ্য যে, এই ৫-ডোর জিমনি এবং ফ্ল্যাগশিপ ই-ভিটারা মডেল দুটির সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদন একচেটিয়াভাবে ভারতেই করা হয়ে থাকে। শীর্ষস্থানীয় এই গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিটি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ভারতীয় কারখানায় তৈরি আন্তর্জাতিক মানের যানবাহনগুলির প্রতি বিশ্বজুড়ে এবং খোদ জাপানি গ্রাহকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতার জেরে, বিগত আর্থিক বছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬-এ পরিমাণের দিক থেকে জাপান এককভাবে মারুতি সুজুকির দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজারে পরিণত হয়েছিল। শুধু তাই নয়, চলমান ২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম পাঁচটি মাস অর্থাৎ এপ্রিল থেকে আগস্ট সময়কালেও জাপান তাদের এই গৌরবময় অবস্থান অত্যন্ত সফলভাবে অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসাশি তাকেউচি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ প্রতিক্রিয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান যে, পাঁচ দরজার জিমনি, স্টাইলিশ ফ্রংক্স এবং ই-ভিটারা গাড়িগুলির জাপানে এক লাখের বেশি ইউনিট রপ্তানি করা কেবল একটি সাধারণ পরিসংখ্যানগত রেকর্ড নয়, বরং এটি ভারতের বিশ্বমানের উৎপাদন উৎকর্ষতা এবং নিখুঁত প্রযুক্তির এক অতি শক্তিশালী এবং অকাট্য স্বীকৃতি। এই অনন্য মাইলফলকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং গর্বের বিষয়, কারণ জাপানকে বিশ্বজুড়ে অটোমোবাইল শিল্পের অন্যতম অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং বাজার হিসেবে গণ্য করা হয়। জাপানি গ্রাহকদের কঠোর মানদণ্ড পেরিয়ে ভারতীয় মেক ইন ইন্ডিয়া গাড়িগুলির এই অভাবনীয় সাফল্য দেশের শিল্প জগতের মুকুটে নতুন এক স্বর্ণোজ্জ্বল羽 যুক্ত করেছে।

কোম্পানি আরও জানিয়েছে যে, এই আধুনিক মডেলগুলির অভাবনীয় বাণিজ্যিক সাফল্যের হাত ধরেই বিগত অর্থবছরে জাপানে সুজুকি মোটর কর্পোরেশনের সর্ববৃহৎ ভেহিক্যাল বা যানবাহন আমদানিকারক ব্র্যান্ড হয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল। বিগত অর্থবছরে জাপানের সামগ্রিক মোটর গাড়ি আমদানির বাজারে মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া কর্তৃক উৎপাদিত ও সরবরাহকৃত গাড়িগুলির অংশীদারিত্ব ছিল প্রায় শতভাগ বা ১০০% এর কাছাকাছি। হিসাশি তাকেউচি আরও বলেন যে, এই মেগা রপ্তানি সাফল্য ভারত এবং জাপানের দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের এক অভাবনীয় ও অবিশ্বাস্য অগ্রগতির উজ্জ্বল প্রতীক। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের ফলেই জাপান আজ মারুতি সুজুকির বৈশ্বিক বাণিজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম লাভজনক বাজার হিসেবে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে।