সূর্যাস্তের পর বাসে শুয়ে বাধা ঐশীর! কনট প্লেসে ২২ জন মহিলা আন্দোলনকারীকে বেআইনিভাবে আটকের অভিযোগে তোলপাড় দিল্লি

রাজধানীর বুকে পুলিশি দমনপীড়ন এবং মহিলা আন্দোলনকারীদের ওপর লাগাতার হামলার অভিযোগে রবিবার উত্তাল হয়ে উঠল কনট প্লেস চত্বর। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও মহিলা সাংবাদিকদের ওপর বলপ্রয়োগের প্রতিবাদে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (SFI)-র দিল্লি রাজ্য কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ‘তেরঙ্গা যাত্রা’ বা জাতীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং দেশের প্রচলিত আইনকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সূর্যাস্তের পর জোরপূর্বক ২২ জন মহিলা আন্দোলনকারীকে বেআইনিভাবে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
এসএফআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শনিবার রাজধানীতে নাবালিকা আন্দোলনকারী ও মহিলা সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত হামলার প্রতিবাদেই এই জাতীয় পতাকা মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মিছিল শুরু হওয়ার আগেই অর্থাৎ সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ পুলিশ চত্বরে হানা দিয়ে মহিলা আন্দোলনকারীদের জোর করে প্রিজন ভ্যানে তুলতে শুরু করে। আন্দোলনকারীদের আটক করার এই নির্মম প্রক্রিয়া রুখতে এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষকে সাহসিকতার সঙ্গে বাসের সামনে সোজা রাস্তায় শুয়ে পড়তে দেখা যায়।
সংগঠনের আরও অভিযোগ, নতুন ফৌজদারি আইন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ৪৩(৫) ধারা অনুযায়ী সূর্যাস্তের পর কোনো মহিলাকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও বেআইনি। তা সত্ত্বেও সূর্য ডোবার পর পুলিশ এই নিয়ম লঙ্ঘন করে। শুধু তাই নয়, বিএনএসএস-এর ৪৬(১) ধারা অনুযায়ী শুধুমাত্র মহিলা পুলিশ কর্মীরাই মহিলা আন্দোলনকারীদের স্পর্শ বা আটক করতে পারেন। কিন্তু এসএফআইয়ের তীব্র দাবি, খোদ পুরুষ পুলিশ আধিকারিকরা মহিলা আন্দোলনকারীদের গায়ে হাত তোলেন, অকথ্য টানা-হেঁচড়া করেন এবং জোর করে আটক করার সময় তাঁদের গায়ে পর্যন্ত হাত তোলেন। দেশের শীর্ষ আদালত ‘শীলা বার্সে বনাম মহারাষ্ট্র রাজ্য’ মামলায় যে ঐতিহাসিক সুরক্ষা নির্দেশিকা দিয়েছিল, দিল্লি পুলিশ তা প্রকাশ্যেই লঙ্ঘন করেছে বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনটি।