বুড়ি গণ্ডকীর গ্রাসে নেপাল! হড়পা বানে ভেসে গেল ব্রিজ-টেলিফোন টাওয়ার, ভূমিধসের কারণ খুঁজতে উড়ল ড্রোন!

ভয়াবহ হড়পা বান এবং বিশাল ভূমিধসের জেরে তছনছ হয়ে গেল নেপালের গোর্খা জেলা। বুড়ি গণ্ডকী নদীর গতিপথ আটকে গিয়ে সৃষ্ট এই আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। বিপর্যয় মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে নেপাল সেনা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালানো উদ্ধারকাজে এপর্যন্ত এক বিদেশি নাগরিক-সহ ৩৬ জন দুর্গতকে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। তবে কাদা ও পাথরের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অন্তত ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখতে এবং নদী অববাহিকায় ভূমিধসের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই ড্রোন ও ভূতত্ত্ববিদদের বিশেষ টিম পাঠিয়েছে প্রশাসন।

নদীর তোড়ে ভাসল গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA) জানিয়েছে, রবিবার সকালে গোর্খা জেলার লোকপা ও ছুমলিংয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধস নামে। এর ফলে বুড়ি গণ্ডকী নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়ে আচমকা প্লাবন দেখা দেয়। মুহূর্তের মধ্যে কাদা-জল ও পাথরের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে যায় লোকালয়।

  • গোর্খার আরুঘাট থেকে ধাদিং সংযোগকারী প্রধান কনক্রিটের ব্রিজের বড় অংশ জলের তোড়ে ভেঙে গিয়েছে।

  • ন্যাচেতাত থেকে সিরদিবাসগামী ঝুলন্ত সেতু, মাছিখোলা-কেরাউজা ফুটব্রিজ এবং সোতিমার লোহার সেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

  • ৩৮১ মেগাওয়াটের বুড়ি গণ্ডকী প্রজেক্টের প্রধান ক্যাম্প, যন্ত্রপাতি, ২টি টেলিফোন টাওয়ার এবং প্রায় ৫০টি বিদ্যুতের খুঁটি প্লাবিত হওয়ায় গোটা এলাকা বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

ময়দানে ৪৩৭ সেনা ও ৪টি হেলিকপ্টার

বিপর্যয়ের পরপরই কাঠমান্ডু থেকে বিশেষ জয়েন্ট র‍্যাপিড রেসপন্স টিমকে দুর্গত এলাকায় এয়ারলিফ্ট করা হয়েছে। বর্তমানে নেপাল সেনা, নেপাল পুলিশ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৪৩৭ জন জওয়ান উদ্ধারকাজে দিনরাত এক করছেন। দুর্গম এলাকা থেকে আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত বের করে আনতে সেনার ৪টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সতর্কতা ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

ঘটনার ওপর নজর রাখছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ। তিনি জানান, আকাশ ও স্থল—উভয় পথেই সমন্বয় রেখে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সোশ্যাল মিডিয়ায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছেন। বিশেষ করে সিরদিবাস, জগত, সলেরি, খোরলাবেসি, মাছিখোলা ও আরুঘাটের মতো নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা ফেরাতে বেইলি ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা ও সমীক্ষা শুরু হয়েছে।