সুরক্ষার বলয় ভেঙে সোজা পিএনবি-র কারেন্সি চেস্টে জাল নোট! ঘুম উড়েছে কর্তৃপক্ষের!

দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সবথেকে সুরক্ষিত এবং দুর্গসম বলয় বলে পরিচিত কারেন্সি চেস্টে কীভাবে হানা দিল জাল নোটের কালো ছায়া? পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (PNB) সাহারানপুর কারেন্সি চেস্ট থেকে উদ্ধার হওয়া প্রায় ১৭ কোটি ২৯ লক্ষ টাকার বিপুল পরিমাণ জাল ভারতীয় নোটের রহস্য উদঘাটনে এবার ময়দানে নেমেছে দেশের শীর্ষ তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই জগাধরী কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, দেশের আর্থিক কাঠামোর এত গভীরে এবং সুরক্ষিত স্তরে কীভাবে এই ভুয়ো মুদ্রা প্রবেশ করল এবং এর নেপথ্যে কোনো সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক বা আন্তঃরাজ্য চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না।
সাধারণত জাল নোট উদ্ধারের ঘটনা চোরাকারবারীদের আস্তানা, সীমান্ত এলাকা কিংবা পরিবহণের সময় ঘটে থাকে। কিন্তু পিএনবি-র কারেন্সি চেস্টের মতো কঠোর নিরাপত্তা এবং নির্দিষ্ট প্রটোকল মেনে চলা স্থানে এত বড় জাল নোটের চালান পৌঁছানো এবং তা দীর্ঘকাল চাপা পড়ে থাকার বিষয়টি গোটা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক আশঙ্কা, এটি কেবল গুটিকয়েক ব্যাংককর্মীর বিচ্ছিন্ন কোনো কারসাজি নাও হতে পারে; বরং ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক নগদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিখুঁতভাবে অপব্যবহার করে এই জালিয়াতি চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পিএনবি-র তিন শীর্ষ আধিকারিক—সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার রবি কুমার কানসে, সোফিয়া মার্কেট কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার সুশীল কুমার এবং জগাধরী কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁরা দেশ ছেড়ে নেপালে পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাঁদের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিসও জারি করেছিল পুলিশ।
তদন্তে সবথেকে উদ্বেগজনক যে বিষয়টি উঠে এসেছে তা হল, গত ৬ জুলাই সাহারানপুর থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের জয়পুর দফতরে পাঠানো প্রায় ১১১ কোটি টাকার বিশাল নগদ চালানের মধ্যেই এই কারচুপি করা হয়েছিল কিনা। সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং মারাত্মক অভিযোগ হল, এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা গোনা, প্যাকিং করা এবং পাঠানোর অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজটি নাকি কোনো এক অস্থায়ী হাউসকিপিং কর্মীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। কোন নির্দিষ্ট পর্যায়ে আসল নোটের পরিবর্তে জাল নোট মেশানো হয়েছিল এবং নিরাপত্তার নিয়ম সম্পূর্ণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে এই কাণ্ড ঘটানো হলো, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হলো, এই জাল নোটের কোনো অংশ ইতিমধ্যে এটিএম বা সাধারণ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পকেটে পৌঁছে গেছে কি না। আপাতত নগদের সম্পূর্ণ গতিপথ পুনর্গঠন করে এই জটিল জালিয়াতির মূল রহস্য উন্মোচন করতে মরিয়া এনআইএ।