পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে সীমান্ত অঞ্চলে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এই সংঘর্ষে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
গত দুই মাস ধরে মূলত বহাল থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য উভয় পক্ষই একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। নভেম্বরে উত্তেজনা কমাতে বৈঠক হলেও তা ব্যর্থ হয়েছিল। এই নতুন গোলাগুলির ঘটনাটি আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে ঘটেছে বলে জানা গেছে।
উত্তেজনার কেন্দ্রে টিটিপি:
ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তান ও আফগান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের মূল কারণ হল ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (টিটিপি)।
পাকিস্তানের দাবি: আফগান তালিবান টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে এবং সেই জঙ্গিরা তারপর পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। টিটিপি ২০০৭ সালে গঠিত একটি আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, যার লক্ষ্য হল পাকিস্তানের সরকারকে সরিয়ে নিজস্ব ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
আফগান তালিবানের পালটা অভিযোগ: পাকিস্তান সরকার ও সেনা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো জঙ্গি সংগঠনকে সাহায্য করছে।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর কাবুলের পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর পাক সীমান্তে সেনা আউটপোস্টে পালটা হামলা চালিয়েছিল আফগানরা। সেই হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ সেনা জওয়ান নিহত বলে তালিবান দাবি করেছিল (যদিও পাক সেনা ২৩ জনের মৃত্যুর দাবি করে)। এর কয়েকদিন পর ১৪ অক্টোবর রাতেও নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়, যেখানে কমপক্ষে ১৫ জন আফগান নাগরিক এবং ৬ জন পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হন।
কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও বারবার এই ধরনের সংঘর্ষ দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলছে।