সিপিএমের বিরুদ্ধে কড়া চ্যালেঞ্জ! জোটের গুঞ্জনের মাঝেই বাম শিবিরে ফাটল ধরাল আরএসপি?

গত শনিবার আসন্ন বিধানসভা বা উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে সিপিএম। রেজিনগর কেন্দ্র থেকে বিশিষ্ট আইনজীবী সৈয়দ আসাদ আলিকে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে তারা। তবে সিপিএমের এই একক সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ বামফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল আরএসপি (RSP)। সিপিএমের প্রার্থীর বিরুদ্ধে সোজা পথে হেঁটে তারাও পাল্টা প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। আর এই ঘটনার পরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে—তবে কি বামেদের নিচুতলার অন্দরেই ফাটল ধরল? মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দীর্ঘদিনের সুপ্ত গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব? একদিকে যখন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য কংগ্রেসের সঙ্গে আগামী দিনে বৃহত্তর জোটের পক্ষে জোরালো সওয়াল করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই শরিকি কোন্দল প্রকাশ্যে আসায় বাম শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

কিছুদিন আগেই প্রবীণ সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, “অন্য জায়গায় বলতে পারব না। তবে আমি তো চাইব শিলিগুড়িতে বামেদের সঙ্গে জোট হোক। বোঝাপড়া হোক।” তিনি শুধু শিলিগুড়ি নয়, আসন্ন নির্বাচনগুলিতেও বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের হাত মিলিয়ে লড়াই করার পক্ষে মত দেন। যখন দলের বর্ষীয়ান নেতারা বৃহত্তর ঐক্যের বাতাবরণ তৈরি করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই রবিবারের সকালের চিত্র সম্পূর্ণ উলটো বার্তা দিল। শরিকি দ্বন্দ্বের জেরে বামফ্রন্টের অন্দরেই বড় ধরনের ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

রবিবার সিপিএমের ঘোষণার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরএসপি তরফ থেকেও এককভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। রেজিনগর কেন্দ্র থেকে এবার আরএসপির টিকিটে লড়বেন বিকাশচন্দ্র মিশ্র। দলটির সাফ দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রেজিনগর আসনটিতে তারাই লড়াই চালিয়ে আসছে এবং তাদের সাংগঠনিক ভিত্তিও বেশ শক্ত। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মহাজোটের সমীকরণের কারণে এই আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দিতে হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সোশ্যালিস্ট পার্টি’-র জন্য আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। বারবার শরিক দলের স্বার্থ ত্যাগ করার পরেও এবার যখন ওই আসনে সিপিএম নিজেদের মতো করে প্রার্থী ঘোষণা করে দিল, তখন আর চুপ করে বসে থাকতে নারাজ আরএসপি নেতৃত্ব। বাধ্য হয়েই তারা এককভাবে ফের নিজেদের প্রার্থী ময়দানে নামাল। সব মিলিয়ে, একদিকে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠনের রাজনৈতিক জল্পনা এবং অন্যদিকে শরিক দলের এই অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ—দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে বাম শিবিরের ঘরোয়া রাজনীতি এখন চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে।