“সিনিয়ররা প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে…”-ভুয়ো বিল অনুমোদনে চাপ, ইঞ্জিনিয়ার করলেন আত্মহত্যা

আসামের বঙাইগাঁওয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর (পিডব্লিউ)-এর সহকারী প্রকৌশলী জ্যোতিষা দাসের (৩০) আত্মহত্যা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি সুইসাইড নোটে তিনি দাবি করেছেন, দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে অসম্পূর্ণ কাজের ভুয়া বিল পাশ করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন, যার ফলে তিনি চরম মানসিক চাপে পড়ে এমন মর্মান্তিক পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

জ্যোতিষা দাস তার নিজ হাতে লেখা সুইসাইড নোটে স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, “আমি এই পদক্ষেপ নিচ্ছি চরম মানসিক চাপে পড়ে। অফিসে আমাকে কেউ গাইড করছে না। আমি ক্লান্ত, আমার কোনো উপায় নেই। আমার মা-বাবা আমার জন্য চিন্তিত।” এই কথাগুলো তার মানসিক অবস্থার গভীরতা এবং হতাশার ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও দাবি করেছেন যে, অসম্পূর্ণ প্রকল্পের জন্য ভুয়া বিল অনুমোদন করতে তাকে সিনিয়র কর্মকর্তারা ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এফআইআর দায়ের করার পর পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা হলেন সম্প্রতি পদোন্নতি পাওয়া সুপারিনটেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার দিনেশ মেধি শর্মা এবং বঙাইগাঁওয়ের বর্তমান সাব-ডিভিশনাল অফিসার আমিনুল ইসলাম। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছি। যে ভবন নিয়ে ভুয়া বিলের অভিযোগ উঠেছে, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে। কাজের প্রকৃত ব্যয় নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশিকা স্পষ্ট করে দেয় যে, সরকার এই অভিযোগের গভীরে প্রবেশ করতে বদ্ধপরিকর।

এই ঘটনা কেবল একটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়, বরং সরকারি দপ্তরের দুর্নীতি এবং কর্মচারীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগকে সামনে নিয়ে এসেছে। এই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে এবং দোষীরা শাস্তি পাবে, এমনটাই আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।