সিঁড়ি জুড়ে রক্তের দাগ! পুরুলিয়ায় চাকরির প্রার্থীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য, পুলিশের জালে যুবক

পুরুলিয়ার বলরামপুর এলাকায় এক তরুণীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রীতিকা মাহাতো নামে ২১ বছরের এক তরুণীকে নিজের মেসে ডেকে পাঠায় অমিত মাহাতো। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তাঁকে খুন করা হয়। ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত প্রীতিকা মাহাতো পুরুলিয়ার বাগমুণ্ডির বুরদা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তিনি পুরুলিয়া শহরের অন্য একটি মেসে থেকে পড়াশোনা করতেন। মৃতার বাবা অভিযোগ করেছেন, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ প্রীতিকাকে নিজের মেসে ডেকে পাঠায় অভিযুক্ত অমিত মাহাতো। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার ফোন করা হলেও ৭টার পর থেকে তাঁর ফোন সুইচড অফ পাওয়া যায়। দীর্ঘক্ষণ যোগাযোগ না করতে পেরে মেসের মালিককে ফোন করেন প্রীতিকার বাবা। এরপরেই সমস্ত বিষয়টি জানাজানি হয় এবং চাঞ্চল্য ছড়ায়।
হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র করে অভিযুক্ত অমিত। রাত ১০টার পর প্রীতিকার রক্তাক্ত দেহটি একটি বস্তাবন্দি করে নিজের মোটরসাইকেলে চাপায় এবং চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। বলরামপুর থানার পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় নাকা চেকিংয়ের সময় বাইকটি আটকানো হয়। এরপর বস্তা খুলতেই ভেতর থেকে তরুণীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযুক্ত অমিত মাহাতোকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। ধৃত অমিত এবং নিহত প্রীতিকা দুজনেই পুরুলিয়ার বাগমুণ্ডির বাসিন্দা এবং তাদের মধ্যে পূর্ব পরিচিতি ছিল বলেই প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে।
রবিবার ধৃত অমিত মাহাতোকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পুরুলিয়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক তাকে ৯ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটল—তা কি সম্পর্কের টানাপোড়েন নাকি অন্য কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পরেই এই নৃশংস খুনের আসল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।