সারের কালোবাজারির অভিযোগ, নির্ধারিত দামের থেকে ২০০ টাকা বেশি নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন আলু চাষিরা

শীতের শুরুতেই পূর্ব বর্ধমান জেলার সবজি ভাণ্ডার নামে পরিচিত পূর্বস্থলী-২ ব্লকে আলু লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। কৃষকদের জন্য এবার কিছুটা স্বস্তি এনেছে আলুর বীজের দাম, যা গতবছরের তুলনায় কম। কিন্তু, সেই স্বস্তি উধাও হয়েছে সার কিনতে গিয়ে।

চাষিদের অভিযোগ:

পূর্বস্থলীর বিশ্বরম্ভা এলাকার আলু চাষিরা অভিযোগ করছেন যে, সার বিক্রেতারা নির্ধারিত সরকারি মূল্যের থেকেও প্রায় দু’শো টাকা বেশি নিচ্ছেন। চাষিরা এটিকে সারের ‘কালোবাজারি’ বলে অভিহিত করেছেন।

  • ক্ষতির অঙ্ক: বিশ্বরম্ভার আলু চাষি বিমল দাসের অভিযোগ, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়, কিন্তু সেই তুলনায় লাভ নেই। আলু সেভাবে বাইরে বিক্রি হয় না এবং সুদে টাকা নিয়ে চাষ করায় মহাজনকে টাকা মেটানো নিয়ে তাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

  • চাষের এলাকা: পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে ৭০ থেকে ৭২ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়। পূর্বস্থলী-২ ব্লকেই প্রায় ৫০০-৬০০ হেক্টর জমিতে জ্যোতি, চন্দ্রমুখী ও পোখরাজ জাতের আলুর চাষ হয়, যার মধ্যে জ্যোতি জাতটি বেশি জনপ্রিয়।

বিক্রেতার ব্যাখ্যা:

যদিও এক সার বিক্রেতা কালোবাজারির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সারের দাম বেশি নেওয়ার কারণ হল:

“সারের সঙ্গে বিভিন্ন অনুখাদ্য ট্যাগ হিসাবে কোম্পানি থেকে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চাষিরা সেইসব অনুখাদ্য নিতে রাজি হচ্ছেন না। স্বভাবতই আমাদের ওই অনুখাদ্যের দাম তখন সারের সঙ্গেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। যার ফলে নির্ধারিত মূল্যের থেকে কিছুটা বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। তবে কালোবাজারি করা হচ্ছে না।”

এই অভিযোগ নিয়ে কৃষিদফতরের কোনো অফিসারই প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। চাষিরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে সারের কালোবাজারি বন্ধ হয় এবং তাঁরা ন্যায্য মূল্যে সার পান।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty