সাতারা, প্রকাশ্যে স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা, স্থানীয়দের তৎপরতায় রক্ষা

মহারাষ্ট্রের সাতারা শহরে সোমবার বিকেলে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক দশম শ্রেণির ছাত্রীকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরি ঠেকিয়ে জিম্মি করার চেষ্টা করে এক যুবক। প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে স্থানীয়দের সাহসিকতা এবং পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে ছাত্রীটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সাতারা শহরের একটি জনবহুল আবাসিক এলাকায়, বিকেল প্রায় ৪টার দিকে। দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী স্কুল ছুটি শেষে বাড়ি ফিরছিল। সেই সময় ১৮ বছর বয়সী আর্যন ওয়াঘমালে নামের এক যুবক তাকে হঠাৎ পথ আটকে একটি ধারালো ছুরি দিয়ে জিম্মি করে। অভিযুক্ত আর্যন সাতারার বাসাপ্পা পেঠ, করঞ্জে এলাকার বাসিন্দা এবং সে নিজেও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
প্রকাশ্য দিবালোকে এই ঘটনা ঘটায় মুহূর্তের মধ্যে এলাকার মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। দ্রুততার সঙ্গে তাঁরা শহর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার কনস্টেবল সাগর নিকমকে খবর দেন। কনস্টেবল নিকম সঙ্গে সঙ্গে অপর কনস্টেবল ধীরাজ মোরে-কে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযুক্ত যুবককে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও সে ছাত্রীটিকে ছাড়তে রাজি হয়নি। পরিস্থিতি জটিল দেখে একজন কনস্টেবল কৌশলে যুবককে বিভ্রান্ত করেন এবং অপর কনস্টেবল পেছন থেকে তার হাত থেকে ছুরিটি কেড়ে নিয়ে ছাত্রীটিকে মুক্ত করেন।
ছাত্রীটিকে মুক্ত করার পর ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আর্যনের উপর চড়াও হয় এবং তাকে মারধর করতে শুরু করে। পুলিশ সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অভিযুক্তকে শাহুপুরি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই ছাত্রী আর্যনের প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে এই হামলার পরিকল্পনা করেছিল। ঘটনার পর ছাত্রী এবং অভিযুক্ত উভয়কেই জেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। শাহুপুরি থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এই রোমহর্ষক ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা সর্বত্র ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তদন্তকারী অফিসার ইনস্পেক্টর সচিন মেত্রে জানিয়েছেন, পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল যে, কোনো বিপদের মুহূর্তে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ একটি জীবন রক্ষায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।