সাতসকালে রাস্তায় বসে মুখ্যমন্ত্রী! ভবানীপুরে ‘টেররিজম’-এর অভিযোগে বিস্ফোরক মমতা, পাল্টা তোপ শুভেন্দুর!

১৫ বছর ধরে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। কিন্তু ২০২৬-এর দ্বিতীয় দফার ভোটের সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন শুধুই ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে এবং লড়াকু এক প্রার্থী। বুধবার সাতসকাল থেকেই নিজের পাড়া ও নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে একেবারে ‘অচেনা’ মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী। কখনও চেতলায়, কখনও আবার চক্রবেড়িয়ার পার্টি অফিসের সামনের রাস্তায় চেয়ার পেতে বসে থাকতে দেখা গেল তাঁকে।
বিস্ফোরক মমতার অভিযোগ: ভবানীপুরের বিভিন্ন বুথ ঘোরার সময় মেজাজ হারান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, চক্রবেড়িয়া এলাকায় তৃণমূলের সমস্ত পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। ক্ষুব্ধ মমতার প্রশ্ন, “এভাবে কি ভোট হয়? ভোট তো মানুষ দেবে, পুলিশ বা সিকিওরিটি দেবে না। বাইরে থেকে কিছু লোক নিয়ে আসা হয়েছে, তারা এলাকায় টেররিজম (সন্ত্রাস) চালাচ্ছে।” নিজের গড়েই মুখ্যমন্ত্রীর এই অসহায়তা ও অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
পাল্টা আক্রমণে বিজেপি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি নেতারা। শমীক ভট্টাচার্যের পাল্টা প্রশ্ন, “পশ্চিমবঙ্গে এমন শক্তি কার আছে যে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ব্যানার খুলে দেয়? এর মানে একটাই— মানুষ এবার জেগে উঠেছে।” অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।”
অচেনা মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী: এদিন সকাল থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে রাস্তার ধারে বসে থাকতে দেখা যায়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের কেন্দ্রে এভাবে তাঁর রাস্তায় বসে থাকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভবানীপুর কি তবে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে? নিজের পাড়ায় কি তাঁর দাপট কমছে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
ফলাফলের অপেক্ষায় বাংলা: নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভবানীপুরে এবার ব্যাপক ভোটদান হয়েছে। একদিকে মমতার ‘সন্ত্রাস’-এর অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপির ‘পরিবর্তন’-এর দাবি— এই দুইয়ের লড়াইয়ে ভবানীপুর শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকে, তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।