সাতদিনের মধ্যে জবাব না দিলে বড় জরিমানা! জলপাইগুড়ির ২৬১টি অবৈধ বেসরকারি স্কুলের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ

জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দশকের পর দশক ধরে রমরমিয়ে চলছে শত শত অবৈধ বেসরকারি বিদ্যালয়। বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পঠনপাঠন চালিয়ে যাওয়ায় জেলার ২৬১টি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কড়া ভাষায় শোকজ নোটিশ ধরাল জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় দফতর। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী সাতদিনের মধ্যে সমস্ত স্কুল কর্তৃপক্ষকে এই শোকজের সন্তোষজনক জবাব দিতে হবে। নতুবা সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক জরিমানা সহ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিকাশ ভবন থেকে সরাসরি রাজ্যের সমস্ত অনুমোদনহীন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির নামের তালিকা পাঠিয়ে শোকজ নোটিশ জারির কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। সেই উচ্চপর্যায়ের নির্দেশ মেনেই জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। শিক্ষা দফতর সূত্রে প্রাপ্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যে জানা গিয়েছে, পুরো জলপাইগুড়ি জেলায় বৈধ অনুমোদনপ্রাপ্ত ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা মাত্র ৩২টি। অথচ এর বিপরীতে কোনো রকম সরকারি অনুমোদন বা ছাড়পত্র ছাড়াই দিনের পর দিন এলাকার বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ২৬১টি অবৈধ বেসরকারি স্কুল। পঠনপাঠনের মান এবং ছাত্রছাত্রীদের উপযুক্ত পরিকাঠামো নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। বিগত সরকারের আমলে এই বিষয়ে নজরদারির অভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিকাশ ভবনের নির্দেশ অনুযায়ী জারি করা শোকজ নোটিশে স্কুলগুলির কাছে একাধিক সুনির্দিষ্ট বিষয়ে বিশদ তথ্য তলব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিদ্যালয়ে মোট ক্লাসের সংখ্যা, ছাত্রছাত্রীর মোট সংখ্যা, ছাত্র-শিক্ষকের সঠিক অনুপাত, স্কুলের নামে থাকা জমির বৈধ দলিল বা আইনি কাগজপত্র এবং স্কুলের ভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে কি না। এছাড়া ছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ এবং খেলাধুলার জন্য উপযুক্ত খেলার মাঠের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির বিষয়েও পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য চেয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা দফতর।
এই বিষয়ে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তাঁরা সম্পূর্ণভাবে সরকারি নির্দেশিকা মেনেই এই আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। বেসরকারি স্কুলগুলিকে সরকারি নিয়মকানুন মেনে বৈধ অনুমোদন নিতে হলে নির্দিষ্ট কিছু আইনি শর্ত ও নথিপত্র জমা দিতে হয়। যাদের সেই প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নেই, তাদেরই এই শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সাতদিনের সময়সীমার মধ্যে যদি স্কুলগুলি সন্তোষজনক জবাব বা সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা ধার্য করা হবে। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে জলপাইগুড়ির শিক্ষা মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং অভিভাবক মহলেও স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।