৪ মে পালাবদলের পরেই তুলকালাম! দলবদলুদের তোলাবাজির প্রতিবাদ করায় রক্তারক্তি কাণ্ড আনন্দপুরে

রবিবার কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকায় একটি প্রীতিভোজের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সংঘর্ষের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই মিলন উৎসব ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, সাম্প্রতিককালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেওয়া কিছু নব্য নেতা ও কর্মীরা বেআইনি তোলাবাজির টাকায় এই মহাভোজের আয়োজন করেছিলেন। এর প্রতিবাদ জানাতে আদি বিজেপি নেতারা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।

এই সংঘর্ষের ফলে আনন্দপুর মাঠের চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এবং এক বিজেপি কর্মীর মাথা ফেটে রক্তারক্তি কাণ্ডের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে ঘটনার রেশ গড়ায় মধ্যরাতে আনন্দপুর থানা পর্যন্ত। পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও থানার সামনেই উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা ফের হাতাহাতিতে লিপ্ত হন। উভয় পক্ষই পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছে।

এ বিষয়ে ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অরুণ বিষই অভিযোগ করেন যে, তাঁর নাম এবং দলের পরিচয় ভাঙিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা তুলে এই ভোজসভার আয়োজন করা হয়েছিল। মেনুতে খাসির মাংস, কাতলা মাছ ও গলদা চিংড়ি রেখে প্রায় সহস্রাধিক মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, যারা গত ৪ মে পালাবদলের পর তৃণমূল থেকে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছে, তারাই পুরানো কায়দায় এলাকায় তোলাবাজি চালাচ্ছে। সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন, যার জেরে তাঁদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করা হয়।

অন্যদিকে, প্রীতিভোজের আয়োজক ও নব্য বিজেপি কর্মীদের দাবি, মণ্ডল সভাপতি নিজে দলবল নিয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছেন এবং তাঁদের মারধর করেছেন। নিজেদের পুরনো ওনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে দাবি করে তাঁরা এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান যে, এই প্রীতিভোজের আয়োজন ও বিশৃঙ্খলার বিষয়ে তাঁর সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই, তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে পুলিশ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে। ঘটনার জেরে আনন্দপুর থানায় একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।