সাগরে ভারতের দাপট, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তিনটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন করলেন মোদি!

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরে রবিবার এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী রইল দেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দিলেন সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ— ‘দুনাগিরি’, ‘সংশোধক’ এবং ‘অগ্রেয়’। গার্ডেন রিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE)-এর তৈরি এই জাহাজগুলো ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষায় ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর এক অনন্য মাইলফলক।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “এই যুদ্ধজাহাজগুলো ভারতের তিনটি সঙ্কল্পের বহিঃপ্রকাশ। এগুলোর নকশা থেকে শুরু করে নির্মাণ—সবই ভারতীয়। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে কারিগর, সবাই দেশের সন্তান। নতুন ভারত এখন আর অস্ত্রের জন্য অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকে না। ভারতের সামরিক খাত বিশ্বের জন্য বাজার নয়, বরং ভারত এখন অস্ত্র নির্মাণে ক্রেতা থেকে বিক্রেতা হওয়ার পথে।”
এই তিনটি যুদ্ধজাহাজের প্রতিটি উপাদানের ৭৫ শতাংশেরও বেশি ভারতেই উৎপাদিত হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে দেশের ২০০টিরও বেশি এমএসএমই (MSME) অংশ নিয়েছে, যা স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন।
নৌবাহিনীর ত্রিমাত্রিক সুরক্ষা কবচ:
নৌবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, এই তিনটি জাহাজ গভীর সমুদ্রে অভিযান এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক ভারসাম্যপূর্ণ শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
দুনাগিরি: প্রোজেক্ট ১৭এ-এর পঞ্চম স্টেলথ ফ্রিগেট। এটি ব্রহ্মস সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল এবং মাঝারি পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমের মতো মারণাস্ত্রে সজ্জিত। এটি নৌবাহিনীর আক্রমণাত্মক সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
সংশোধক: এটি চতুর্থ বৃহৎ জরিপ জাহাজ। উপকূলীয় এবং গভীর সমুদ্রের হাইড্রোগ্রাফিক জরিপের পাশাপাশি, এটি সমুদ্রবিজ্ঞান ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম।
অগ্রেয়: উপকূলে লুকিয়ে থাকা বিপদের মোকাবিলায় এটি অত্যন্ত কার্যকর। জলের নিচের ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং হালকা টর্পেডো ও দেশীয় রকেট লঞ্চারের মাধ্যমে আঘাত হানতে এটি সিদ্ধহস্ত।
এই সংযোজন ভারতীয় নৌবাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নৌ-বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এক বিরাট পদক্ষেপ।