‘সরাসরি অমিত শাহের পায়ে সারেন্ডার করব!’ রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে বিস্ফোরক মন্তব্য হুমায়ুন কবীরের

আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলা নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ এখন চড়েছে চরমে। ঠিক তার আগেই এক সাংবাদিক বৈঠকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রেজিনগরকে একটি ‘মডেল বিধানসভা’ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে গিয়ে ‘সারেন্ডার’ বা আত্মসমর্পণ করতেও পিছপা হবেন না বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন তিনি।
কী বলেছেন হুমায়ুন কবীর?
সাংবাদিক বৈঠকে নিজের চিচিং ফাঁক মেজাজে হুমায়ুন কবীর বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এর আগে রেজিনগরকে মডেল বিধানসভা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রাখেননি। উল্টে রেজিনগরের মানুষ তাঁকে ও তাঁর দলকে জয়ী করেছে। সেই প্রসঙ্গে সরাসরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উদ্দেশে বিস্ফোরক সুরে তিনি বলেন, “আপনার মুখ্যমন্ত্রী তো বলেছিল জিতলে মডেল বিধানসভা করে দেব, জেতেননি; আমরা জিতেছি। আমরা আত্মসমর্পণ করছি আপনার পায়ে, আপনি আমাদের রেজিনগরটা মডেল বিধানসভা করে দিন মানুষের স্বার্থে।”
হুমায়ুন আরও জানান, রেজিনগর বিধানসভা মডেল হওয়ার আগেই তিনি প্লেন ধরে সোজা দিল্লি চলে যাবেন এবং সেখানে গিয়ে সরাসরি নীতিন নবীন বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে এলাকার উন্নয়নের আর্জি জানাবেন। উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামের মতোই রেজিনগরেও বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই জমে উঠেছে। হুমায়ুনের এই দিল্লির দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনা এবং ‘সারেন্ডার’ রাজনীতিতে অন্য ইঙ্গিত দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিজেপি ও তৃণমূলের কড়া প্রতিক্রিয়া
হুমায়ুনের এই মন্তব্যকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি শিবির। রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার অত্যন্ত কড়া ভাষায় কটাক্ষ করে বলেন, “বলুন উনি ভাগীরথীতে ডুব দেবেন। ওঁকে বিজেপির পদ্মফুলে আসতে হবে না। পদ্মের পাঁকে ডুব দিয়ে ওঁকে হাবুডুবু খেতে বলুন। বিজেপিতে ওঁকে কেউ নেবে না। উনি এখন সম্পূর্ণ ‘অচল পয়সা’ হয়ে গেছেন, ওঁকে ভোট দেবে কে?”
অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—উভয় কেন্দ্রেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ লড়াই নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রায় ৬৮ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার অধ্যুষিত রেজিনগর আসনে শেষ পর্যন্ত কার কপাল খোলে এবং মানুষের রায় কোন দিকে যায়, তা স্পষ্ট হবে আগামী ৯ অক্টোবর ভোট গণনার দিনেই।