সরকারি কর্মীদের একাধিক বিয়ে করা নিয়ে মোক্ষম চাল! এক ভুলেই যাবে চাকরি, কড়া সিদ্ধান্ত সরকারের

সরকারি কর্মচারীদের একাধিক বিয়ে বা বহুবিবাহ করা রোধে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল অসম সরকার। বহুবিবাহের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীকে কেবল চাকরি থেকেই বরখাস্ত করা হবে না, বরং ভবিষ্যতে যেকোনো সরকারি চাকরির আবেদনের ক্ষেত্রে তাঁকে চিরতরে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এই ঐতিহাসিক ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘অসম সার্ভিসেস (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল) রুলস, ১৯৬৪’ সংশোধন করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই আইনের মূল বিধির ৭ নম্বর রুলের অধীনে একটি নতুন ধারা যুক্ত করে বহুবিবাহে অভিযুক্ত সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির সংস্থান রাখা হয়েছে। ফলে সরকারি কর্মে নিয়োজিত থাকার সময়েই যদি কেউ নিয়ম লঙ্ঘন করে একাধিক বিয়ে করেন, তবে তাঁর ক্যারিয়ার সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বহুবিবাহের এই প্রবণতা বন্ধে ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসেই প্রথম কড়া নির্দেশিকা জারি করেছিল রাজ্য প্রশাসন। ‘অসম সিভিল সার্ভিসেস (কন্ডাক্ট) রুলস, ১৯৬৫’-এর ২৬ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে বলা হয়েছিল, কোনো সরকারি কর্মীর স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় সরকারের থেকে অগ্রিম লিখিত অনুমতি না নিয়ে তিনি কোনোভাবেই দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারবেন না। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ব্যক্তির নিজস্ব ধর্মীয় আইন বা পার্সোনাল ল-তে দ্বিতীয় বিয়ের ছাড়পত্র থাকলেও সরকারি কর্মী হিসেবে এই নিয়ম বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হবে। কেবল পুরুষ কর্মী নন, যে সমস্ত মহিলা সরকারি কর্মী স্বামী জীবিত থাকা সত্ত্বেও অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে করবেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
সম্প্রতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের সময়ও রাজ্য বিধানসভায় এই বিষয়ে সংকেত দেওয়া হয়েছিল। বাজেটে বহুবিবাহে যুক্ত পুরুষদের রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক এবং আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত করার প্রস্তাব রাখা হয়। সরকারের দাবি, এই আইন প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, লিঙ্গবৈষম্য দূর করা এবং নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সরকারের এই নতুন ও কঠোর পদক্ষেপে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চঞ্চলতার সৃষ্টি হয়েছে।