সম্বল হিংসায় বিরাট ধাক্কা যোগী সরকারের! এনএসএ খারিজ করে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা সুপ্রিম কোর্টের

২০২৪ সালের সম্বল হিংসার ঘটনায় মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে ধৃত মোল্লা আফরোজের বিরুদ্ধে জাতীয় সুরক্ষা আইনে (NSA) জারি হওয়া আটকের নির্দেশ খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তাই নয়, এই নির্দেশকে বহাল রাখায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ও এদিন বাতিল করেছে শীর্ষ আদালত। পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন দেওয়া স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে এমন কঠোর প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের নির্দেশ দেওয়া যায় না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ। সেই সঙ্গে অবৈধভাবে আটকের জেরে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই
২০২৪ সালে সম্বলের শাহি জামা মসজিদে আদালতের নির্দেশে সার্ভের সময় যে ভয়াবহ হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে চারজন প্রাণ হারিয়েছিলেন। সেই ঘটনার প্রায় ৫৪ দিন পর পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন একটি স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মোল্লা আফরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি এলাহাবাদ হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও, গত বছর ১৩ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে এনএসএ-র আওতায় আটকের নির্দেশ জারি করা হয়। এলাহাবাদ হাইকোর্ট সেই নির্দেশ বহাল রাখায় অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন আফরোজ।
শুনানি চলাকালীন বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট প্রশ্ন তোলে যে, পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় দেওয়া কোনও স্বীকারোক্তি কি কাউকে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনে আটকে রাখার মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি হতে পারে? আফরোজের আইনজীবীরা সওয়াল করেন যে, পুলিশি হেফাজতে দেওয়া স্বীকারোক্তি আইনত গ্রাহ্য নয় এবং নিছক ফৌজদারি মামলার উপস্থিতির ভিত্তিতে কাউকে এভাবে আটকে রাখা যায় না। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ সরকার অভিযুক্তের জামিন আটকাতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানালেও শীর্ষ আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় দেওয়া বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ আইনসম্মত নয়।
জাতীয় ও আইনি খবরের এমন সব গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিয়মিত পেতে আমাদের সঙ্গে যুক্ত থাকুন। এই প্রতিবেদনটি আপনার কেমন লাগল, কমেন্ট করে জানান।