আমেরিকার বড় পদক্ষেপ! ১০০% ট্যাঁরিফ থেকে রেহাই পেল ভারতীয় ওষুধ, জিরো ট্যাক্সে যাবে কোন কোন মেডিসিন?

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির জন্য এলো অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর। ভারতীয় ফার্মা সামগ্রীর ওপর ভারী শুল্ক আরোপের উদ্বেগের মাঝেই মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির জীবনদায়ী ও জটিল চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের জন্য ‘জিরো-ট্যারিফ’ বা শূন্য শুল্কের বিশেষ ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছে। ভারতসহ বিশ্বজুড়ে মাত্র ২০টি দেশ ও অঞ্চলকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বুরো অফ ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি’ (BIS)।

কোন কোন ওষুধ পাঠাতে গুণতে হবে না এক পয়সাও কর? মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই ছাড় সব সাধারণ বা জেনেরিক ওষুধের জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ওপর এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে:

  • অরফ্যান ড্রাগস (Orphan Drugs): দুর্লভ বা বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ।

  • ফার্টালটি ড্রাগস (Fertility Drugs): বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ ও প্রজনন সংক্রান্ত চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ।

  • জিন ও সেল থেরাপি প্রোডাক্ট: ক্যানসারসহ একাধিক জটিল রোগের জিনগত চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ।

  • নিউক্লেয়ার ও প্লাজমা মেডিসিন: রেডিওলজিক্যাল বা বিশেষ রক্তজনিত চিকিৎসায় ব্যবহৃত থেরাপি।

  • এন্টিবডি ড্রাগ কনজুগেটস (ADC): ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের আধুনিকতম টার্গেটেড থেরাপি।

  • অন্যান্য: রাসায়নিক, জৈবিক বা তেজস্ক্রিয় ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত মেডিকেল কাউন্টারমেজার্স এবং বেশ কিছু নির্দিষ্ট পশুখাদ্য ও ভেটেরিনারি প্রোডাক্ট।

এছাড়া এই সব বিশেষ ওষুধ তৈরির কাঁচামাল বা অ্যাক্টিভ ইনগ্রেডিয়েন্টসের ওপরও মিলবে এই ট্যাক্স ছাড়।

১০০% ট্যারিফের জটিলতা ও ভারতের লাভ বাণিজ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তার অজুহাতে কিছু পেটেন্টেড ওষুধ ও সরঞ্জামের ওপর ট্র্যাড এক্সপেনশন অ্যাক্টের সেকশন ২৩২-এর অধীনে ১০০ শতাংশ ‘অ্যাড ভ্যালোরম ট্যারিফ’ (সামগ্রীর মূল্যের ওপর শতাংশ হারে শুল্ক) আরোপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আমেরিকা। তবে নতুন এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে সাধারণ জেনেরিক ওষুধ এবং জরুরি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই বিশেষ ওষুধগুলিকে সেই চড়া শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

মার্কিন সরকারের মতে, আমেরিকার স্বাস্থ্য খাতের জরুরি চাহিদা মেটাতে এবং ভারতের মতো বন্ধুভাবাপন্ন মিত্র দেশগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্য ও নিরাপত্তা চুক্তি বজায় রাখতেই এই ছাড়ের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

কীভাবে মিলবে এই ছাড়? যেসব ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি এই সুবিধার সুযোগ নিতে চায়, তাদের পণ্যের শ্রেণীবদ্ধকরণ, সক্রিয় কাঁচামাল, প্রস্তুতকারক সংস্থা ও মার্কিন বাজারে তার প্রয়োজনীয়তার বিশদ তথ্য জমা দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস পর্যালোচনা করে প্রতিটি আবেদনের ভিত্তিতে অনুমোদন দেবে।

যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় ফার্মা রফতানির সবথেকে বড় বাজারগুলির একটি, তাই এই জিরো-ট্যারিফ ব্যবস্থা ভারতের ওষুধ শিল্প এবং রফতানিকারকদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এক নতুন অক্সিজেন জোগাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।