বিধায়ক আসলে কী করেন? আপনার দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে এই পদের যোগ কেন সবচেয়ে বেশি, জানুন

বিধায়ক আসলে কী করেন? কেন উত্তরটা আপনার দৈনন্দিন জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
বেহাল রাস্তা, স্থানীয় কোনও পরিষেবা ঠিকমতো কাজ না করলে কিংবা রাজ্য সরকারের কোনও দফতর আপনার প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে—কাকে প্রশ্ন করবেন? কার কাছে জবাবদিহি চাইবেন? সাধারণ মানুষের মনে এই প্রশ্নগুলো প্রায়ই জাগে। একজন বিধায়কের আসল ভূমিকা কী, স্থানীয় উন্নয়ন তহবিল কীভাবে কাজ করে কিংবা বিধায়ক, সাংসদ ও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বের পরিধি ঠিক কোথায় শেষ—তা জানা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের জন্যই অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি লিখেছেন সন্তোষ নায়ার।
বিধায়কের কাজ কেন আপনার জীবনের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত?
একজন বিধায়ক (Member of the Legislative Assembly) বিধানসভার সদস্য। একজন সাংসদ যেখানে একটি বড় লোকসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেখানে বিধায়ক তুলনামূলকভাবে ছোট এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন এবং রাজ্যের বিধানসভায় কাজ করেন। ভারতের সংবিধানে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টিত হয়েছে। প্রতিরক্ষা বা রেলওয়ের মতো জাতীয় বিষয়গুলি কেন্দ্রের (সাংসদের) অধীনে থাকলেও পুলিশ, জমির রেকর্ড, কৃষি, জনস্বাস্থ্য এবং স্কুলশিক্ষার বড় অংশই রাজ্য সরকারের অধীনে।
অর্থাৎ, আপনার বাড়ির কাছের পুলিশ আধিকারিক, জমির রেকর্ড, সরকারি হাসপাতাল কিংবা স্থানীয় কৃষকদের নীতি—এই সমস্ত কিছুই দিল্লিতে বসা কারও চেয়ে আপনার রাজ্য সরকার এবং আপনার এলাকার বিধায়কের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বিধায়কদের স্থানীয় উন্নয়ন তহবিল বা MLALAD কীভাবে কাজ করে?
সাংসদদের মতো বিধায়করাও নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নের জন্য তহবিল পেয়ে থাকেন, যা সাধারণত MLALAD স্কিম নামে পরিচিত। উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য বিধায়ক সুপারিশ করার পর স্থানীয় জেলা প্রশাসন তাতে অনুমোদন দিয়ে তা বাস্তবায়ন করে। অর্থাৎ, বিধায়ক নিজে সরাসরি সেই টাকা খরচ করেন না। তবে এই তহবিলের পরিমাণ সব রাজ্যে সমান নয়। যেমন—দিল্লিতে বিধায়কদের জন্য বার্ষিক ১৫ কোটি টাকা তহবিল বরাদ্দ থাকে, যা দেশে সর্বোচ্চ। পঞ্জাব, কেরল ও রাজস্থানে এই পরিমাণ ৫ কোটি টাকা, আবার অসম, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকে তা ২ কোটি টাকা।
মন্ত্রী হওয়ার বিশেষ ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব
উন্নয়ন তহবিলের পাশাপাশি বিধায়কদের এমন একটি ক্ষমতা থাকে যা সাংসদদের সাধারণত থাকে না। বিধায়কদের দল রাজ্যে সরকার গঠন করলে, সেই বিধায়ক রাজ্যের মন্ত্রী হতে পারেন। এর ফলে স্বাস্থ্য, কৃষি বা স্বরাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতরের প্রশাসনিক দায়িত্ব সরাসরি তাঁর হাতে আসতে পারে। সাধারণ সাংসদরা এভাবে সচরাচর সরাসরি দফতর পরিচালনার দায়িত্ব পান না।
দায়িত্বের সঠিক ফারাক বুঝবেন কীভাবে?
অনেকেই স্থানীয় রাস্তাঘাট মেরামত বা নর্দমা পরিষ্কারের মতো কাজের জন্য সরাসরি সাংসদ বা বিধায়কের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অথচ এই কাজগুলি আসলে পৌরসভা বা পঞ্চায়েতের স্থানীয় দায়িত্ব।
বিধায়ক: স্বাস্থ্য, পুলিশ, জমি ও রাজ্যস্তরের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখেন।
সাংসদ: জাতীয় আইন প্রণয়ন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের উপর নজরদারি চালান।
পৌরসভা/পঞ্চায়েত: রাস্তাঘাট তৈরি ও স্থানীয় পরিষেবা পরিচালনা করে।
কোন সমস্যার দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠানের, তা জানা থাকলে অহেতুক ভুল জায়গায় অভিযোগ জানিয়ে সময় নষ্ট হয় না। তাই আপনার দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করতে এই ফারাকটা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।