সভাপতি হতে দলে ১৭ জনের মারামারি! বোলপুর বিজেপিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল

রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার চর্চায় উঠে এল বিজেপির অন্দরের কোন্দল। বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদকে কেন্দ্র করে দলের ভেতর থেকেই প্রকাশ্যে চলে এল তীব্র অসন্তোষ ও দ্বন্দ্ব। বুধবার একটি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বর্তমান জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল সরাসরি অভিযোগ তুললেন দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, আসন্ন রদবদলের গুঞ্জনে জেলা সভাপতির চেয়ারটি হাতিয়ে নিতে দলেরই সতেরো জন নেতা উঠেপড়ে লেগেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে শ্যামাপদবাবু জানান, দলের রাজ্য নেতৃত্ব যখনই জেলা স্তরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, ঠিক তখনই একদল নেতা নিজেদের মতো করে গ্রুপ তৈরি করতে শুরু করে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দলের ভেতর থেকেই তলায় তলায় কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে এবং তাঁর গায়ে দুর্নীতির কালি লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঠিক কী নিয়ে তৈরি হয়েছে এই বিতর্ক? সাম্প্রতিক সময়ে বোলপুরের রাজনৈতিক মহলে একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বিকাশ ভকত ওরফে বিকি নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন। এই বিকাশ ভকত হলেন বোলপুর পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল চেয়ারম্যান সুশান্ত ভকতের ছেলে এবং তাঁর বোন সুস্মিতা ভকত বর্তমান তৃণমূল কাউন্সিলর। পাশাপাশি, বিকাশ আবার রাজ্যের প্রাক্তন কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত। এই ভিডিও সামনে আসতেই দলের ভেতর থেকে পরোক্ষে সভাপতির বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন একাংশ বিজেপি নেতা।
তবে সমস্ত জল্পনা ও সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে ওই বৈঠকে সমস্ত বিষয়টি নিজেই পরিষ্কার করেন শ্যামাপদ মণ্ডল। তিনি অকপটে স্বীকার করে নেন যে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি তাঁরই এবং তিনি বিকাশ ভকতের বাড়ি গিয়েছিলেন। তবে নিজের সাফাইয়ে তিনি জানান, বিকাশ কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত বা তাঁর পরিবার তৃণমূলের সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। তিনি কেবল একজন শিল্পপতি হিসেবেই বিকাশকে চেনেন এবং বোলপুরে একটি বন্ধ কাপড় কারখানা খোলার বিষয়ে আলোচনা করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।
দলেরই একাংশ নেতার এই ধরনের চক্রান্ত এবং বিরোধীদের সঙ্গে হাত মেলানোর ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের ও বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন জেলা সভাপতি। তাঁর স্পষ্ট কথা, পার্টির ব্যানার ও নাম ব্যবহার করে যারা ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।