সন্দেহের বশে স্ত্রীকে ভারী লাঠির বাড়ি! মধ্যপ্রদেশে রাতের অন্ধকারে স্বামীর দেহ পুড়িয়ে বালির নিচে পুঁতল স্ত্রী

দাম্পত্য কলহ ও বিশ্বাসের অভাব যে কতটা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে, তার এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রদেশের আলিরাজপুর জেলার উদয়গড় থানা এলাকার তাতি-আম্বা গ্রাম। স্বামীর চরিত্র নিয়ে দীর্ঘদিনের সন্দেহ এবং বারবার সেই নিয়ে অশান্তির জেরে এক ভয়ংকর কান্ড ঘটিয়েছেন এক গৃহবধূ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৭ দিন আগে নিখোঁজ হয়ে যান ৫০ বছর বয়সি রামা বাকলা। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কোনো সন্ধান না মেলায় তদন্তে নামে পুলিশ। অবশেষে মৃতের স্ত্রী ৪৭ বছর বয়সি নাহজুবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে এক ভয়ানক সত্য, যা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশের কাছে জেরার মুখে নাহজুবাই স্বীকার করেছেন যে, স্বামীর চরিত্র নিয়ে তাঁর মনে প্রবল সন্দেহ ছিল। এই নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে একটি ভারী কাঠের লাঠি দিয়ে রামা বাকলার মাথায় সজোরে আঘাত করেন তিনি। ঘটনাস্থলেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, অপরাধ ঢাকতে এক ভয়ঙ্কর ফন্দি আঁটেন সেই স্ত্রী। খুন করার পর ঘরের দরজা বন্ধ করে মৃতদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং ধোঁয়া যাতে বাইরে না বের হয়, তার জন্য একটি বড় ড্রাম দিয়ে দেহটি চাপা দেওয়া হয়। এরপর দেহ পুরোপুরি না পুড়লে, ঘরের ভেতরে থাকা বালির স্তূপের নিচে পুড়িয়ে দেওয়া অবশেষ পুঁতে ফেলা হয়। এমনকি স্বামীর ছবি ও পরিচয়পত্রও আগুনে পুড়িয়ে সব প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা করেন তিনি।
১৭ দিন ধরে নিখোঁজ থাকলেও এই ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা ঘুণাক্ষরেও কেউ টের পায়নি। কিন্তু সম্প্রতি ওই দম্পতির ২১ বছরের ছেলে গুজরাত থেকে বাড়িতে ফেরার পরেই তাঁর মনে তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধে। বাবাকে দেখতে না পেয়ে সে বারবার মাকে প্রশ্ন করতে শুরু করে, কিন্তু প্রতিবারই তাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন নাহজুবাই। ছেলের মনে সন্দেহ আরও বাড়লে, সে মায়ের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে কড়া জেরা শুরু করে। আর তাতেই ভেঙে পড়ে ছেলের কাছে খুনের কথা স্বীকার করেন মা। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হলে উদয়গড় থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই বাড়ির পিছনের ঘরের বালি খুঁড়ে মৃতের দেহের অংশবিশেষ উদ্ধার করে। অভিযুক্ত গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করে ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।