“সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতি বানিয়েছে কিছু দেশ”-রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তোপ জয়শঙ্করের

শনিবার রাতে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে (UNGA) ভাষণ দিতে গিয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর প্রতিবেশী পাকিস্তানের নাম না করে সীমান্ত সন্ত্রাসবাদের উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, কিছু দেশ এটিকে ‘রাষ্ট্রীয় নীতিতে’ পরিণত করেছে। ‘ভারতের জনগণের কাছ থেকে নমস্কার’—এই অভিবাদন দিয়ে শুরু করে জয়শঙ্কর রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশগুলিকে এর প্রতিষ্ঠার আদর্শের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রসংঘের সনদ আমাদের কেবল যুদ্ধ প্রতিরোধ করার জন্য নয়, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য, কেবল অধিকার রক্ষা করার জন্য নয়, বরং প্রতিটি মানুষের মর্যাদা রক্ষার জন্য আহ্বান জানায়।’

জয়শঙ্কর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক জঙ্গি হামলার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ২৬ জন মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি স্পষ্ট জানান, ‘ভারত স্বাধীনতার পর থেকেই এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, কারণ তার প্রতিবেশী দেশটি বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থল।’ তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে, বড় বড় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীর সন্ধান পাওয়া যায় সেই একটি দেশেই।

পহেলগাঁও হামলার মতো ঘটনার উল্লেখ করে বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি, আমাদের অবশ্যই হুমকির মুখোমুখি হতে হবে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করা একটি বিশেষ অগ্রাধিকার, কারণ এটি ধর্মান্ধতা, হিংসা, অসহিষ্ণুতা এবং ভয়কে সংশ্লেষিত করে।’

‘অপারেশন সিঁদুর’ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি বার্তা:
ভারতের বিদেশমন্ত্রী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ তুলে বলেন যে ভারত তার নাগরিকদের রক্ষা করার এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার অধিকার প্রয়োগ করেছে। তবে জয়শঙ্করের বড় বার্তাটি ছিল বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘যখন দেশগুলি প্রকাশ্যে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতি ঘোষণা করে, যখন সন্ত্রাসের কেন্দ্রগুলি শিল্প স্তরে কাজ করে, যখন সন্ত্রাসবাদীদের প্রকাশ্যে মহিমান্বিত করা হয়, তখন এই ধরনের কর্মকাণ্ডের দ্ব্যর্থহীনভাবে নিন্দা করা উচিত।’

পহেলগাঁও হামলার পরেও পাকিস্তানকে সমর্থনকারী দেশগুলিকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘টেরর ফান্ডিং বন্ধ করতে হবে। সমগ্র সন্ত্রাসবাদের বাস্তুতন্ত্রের উপর নিরলস চাপ প্রয়োগ করতে হবে। যারা সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশগুলিকে সমর্থন করে তারা দেখতে পাবে যে এটি তাদের কামড় দিতে ফিরে আসবে।’

উল্লেখ্য, এর আগের দিন শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে ভারত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি কাশ্মীর নিয়ে ভারতের নীতির সমালোচনা করে বলেন, পাকিস্তান কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের মৌলিক অধিকার অর্জনে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।