‘সনাতন ধর্ম’ রক্ষার নামে জাতপাতমূলক মন্তব্য! প্রধান বিচারপতিকে অপমান করায় কড়া পদক্ষেপ পাঞ্জাব পুলিশের

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাইকে ‘সনাতন ধর্ম’ রক্ষার লক্ষ্যে জুতো ছুঁড়ে মারার চেষ্টার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অকথা-কুকথার ঝড় উঠেছে। এই ঘটনাকে সমর্থন জানিয়ে বিচারপতি গাভাইয়ের উদ্দেশে আপত্তিকর ও জাতপাত সম্পর্কিত বিভিন্ন মন্তব্যের বন্যা বইয়ে দেওয়া হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল পাঞ্জাব পুলিশ। দলিত আন্দোলনের নেতা বিআর আম্বেদকরপন্থী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির সরকার একগুচ্ছ এফআইআর দায়ের করেছে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

একশোর বেশি হ্যান্ডেলের বিরুদ্ধে মামলা
পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে এই বিষয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ এসেছে। যার ভিত্তিতে প্রায় একশোরও বেশি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এই হ্যান্ডলগুলি থেকে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এবং জাতপাত নিয়ে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য পোস্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এইসব পোস্টের মাধ্যমে:

হিংসায় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

সাংবিধানিক পদমর্যাদা হানিকর ও অসম্মানজনক কথাবার্তা বলা হয়েছে।

তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষের বিরুদ্ধে অপমান করা হয়েছে, যা সমাজে শত্রুতা ছড়াতে পারে।

পুলিশের মতে, এর ফলে বিভিন্ন জাতের মধ্যে শত্রুতা বাড়বে এবং জাতিভিত্তিক ইচ্ছাকৃত অপদস্থ করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।

কী লেখা ছিল অভিযুক্তের চিরকুটে?
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, জুতো ছুঁড়ে মারার চেষ্টা করা প্রবীণ আইনজীবী রাকেশ কিশোরের কাছ থেকে পুলিশ একটি কাগজের টুকরো উদ্ধার করে। তাতে লেখা ছিল: “মেরা সন্দেশ হর সনাতনী কে লিয়ে হ্যায়…সনাতন ধর্ম কা অপমান নহি সহেগা হিন্দুস্থান।”

পাঞ্জাব পুলিশের দায়ের করা মামলাগুলি মূলত তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের উপর নিগ্রহ দমনমূলক আইনের অন্তর্গত। কিছু মামলা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা মোতাবেকও করা হয়েছে।