সড়ক নেই বলে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকল না! ডোলিতে প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে জন্ম নিল সন্তান

ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে আজও উন্নত সড়ক ব্যবস্থার অভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার এক করুণ চিত্র দেখা গেল তেলেঙ্গানার ভদ্রদ্রি কোথাগুদেম জেলায়। অন্তঃসত্ত্বা এক মহিলাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স গ্রামের কাদা ভরা পথে ঢুকতে পারেনি। ফলে, বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরি একটি ‘ডোলি’-তে করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু হাসপাতালের পথে প্রসব যন্ত্রণা বেড়ে যাওয়ায় তিনি মাঝ পথেই একটি ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দেন।

কী ঘটেছিল?

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন ওই তরুণী। তাঁর পরিবার দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেয়। কিন্তু গ্রামের কাঁচা রাস্তা প্রবল বৃষ্টিতে কাদায় ভরে থাকায় অ্যাম্বুলেন্স চালক গ্রামে ঢুকতে রাজি হননি। বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যরা অন্তঃসত্ত্বাকে একটি বাঁশের ডোলিতে করে কয়েক কিলোমিটার দূরের মূল সড়কের দিকে নিয়ে যেতে শুরু করেন। পথেই প্রসব যন্ত্রণা তীব্র আকার ধারণ করলে তিনি সন্তানের জন্ম দেন।

কিছুক্ষণ পর একটি অ্যাম্বুলেন্স মূল সড়কে পৌঁছায় এবং মা ও সদ্যোজাতকে সত্যনারায়ণপুরম হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে, মা ও শিশু উভয়েই স্থিতিশীল আছেন।

একাধিকবার একই ঘটনা

এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত জুলাই মাসে মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলাতেও এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল। সিধি জেলার বারিগওয়ান গ্রামের আদিবাসী তরুণী প্রীতি রাওয়াতেরও একই পরিণতি হয়েছিল। গ্রামে পাকা রাস্তা না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স তাঁর বাড়ির কাছে পৌঁছাতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরা প্রায় ২ কিলোমিটার পথ ডোলিতে করে তাঁকে নিয়ে গেলে অ্যাম্বুলেন্সেই তিনি সন্তানের জন্ম দেন।

চিকিৎসা ও সমাজকর্মী মহল থেকে রাজ্য সরকারের এই গাফিলতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। তাঁদের মতে, উন্নত রাস্তা না থাকায় গর্ভবতী মহিলাদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।