সকালে ঘুম ভাঙতেই বিভীষিকা! পাকিস্তানের নামী হাসপাতালে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে খাক ১৫ সদ্যোজাত?

ইসলামাবাদের বৃহত্তম ও সুসজ্জিত সরকারি হাসপাতাল ‘পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস’ (পিআইএমএস)-এর স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগে ঘটা এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গোটা রাজধানীজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘জিও নিউজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৭টা নাগাদ এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন সদ্যোজাতের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনো পর্যন্ত মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা হয়নি।

হাসপাতালের মুখপাত্র তথা চিকিৎসক আনিজা জলিল সংবাদমাধ্যম ‘ডন’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান যে, যে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে, সেখানে মোট ১৫টি শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেছেন যে, রাতের বিভিন্ন সময়ে বেশ কিছু শিশুকে হাসপাতাল থেকে তড়িঘড়ি ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই জটিল পরিস্থিতির কারণে ঠিক কতজন শিশু এই ভয়াবহ আগুনের গ্রাসে প্রাণ হারিয়েছে, তা এখনই নিখুঁতভাবে বলা সম্ভব নয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসকরা অনুমান করছেন যে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিধ্বংসী আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল। সকালের দিকে হঠাৎই আগুন লাগায় মুহূর্তের মধ্যে পুরো ওয়ার্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীদের যৌথ প্রচেষ্টায় বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও হাসপাতালের অন্দরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আসতে কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং হাসপাতালগুলির অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।