শ্রীরামকৃষ্ণর চরিত্র ছাড়তেই চরম বয়কট! গোঁসা করে যে ঐতিহাসিক কান্ড ঘটিয়েছিল দর্শক, ফাঁস করলেন অরিন্দম

শতাব্দী শুরুর গোড়ার দিক। কেবল চ্যানেল সবেমাত্র ডালপালা মেলছে, আর দূরদর্শনে তখন টিআরপি কাঁপিয়ে চলছে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘শ্রীরামকৃষ্ণ’। নামভূমিকায় অভিনেতা অরিন্দম গাঙ্গুলি। প্রথমদিকে ‘হংসরাজ’ খ্যাত এই অভিনেতাকে পরমহংসের চরিত্রে কাস্ট করা নিয়ে দর্শকের মনে কিছুটা সংশয় বা ‘গাঁইগুঁই’ থাকলেও, মাত্র তিন-চারটি পর্ব সম্প্রচারিত হতেই সেই ছবি বদলে যায়। তীব্র উচ্ছ্বাসে লুফে নেয় দর্শক। রমরমিয়ে ২৫০টি পর্ব পার করার পর হঠাৎই বন্ধ হয়ে যায় ধারাবাহিকটি। আর তারপর ছোটপর্দার ইতিহাসে যা ঘটেছিল, তা একেবারে অভূতপূর্ব। সম্প্রতি আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে সেই না বলা দিনগুলির স্মৃতিচারণ করলেন খোদ অরিন্দম গাঙ্গুলি।

ভুঁড়ি নিয়ে কটাক্ষ ও আকস্মিক ধাক্কা
স্মৃতির পাতা উল্টে অভিনেতা জানান, ২৫০ পর্ব পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাঁর ছোট্ট ভুঁড়ি বা স্বাস্থ্য নিয়ে কিছু কটাক্ষ ধেয়ে এসেছিল। যদিও বেলুড় মঠের প্রকাশিত ‘শতরূপে সারদা’ বইয়ে শ্রীরামকৃষ্ণের শারীরিক গঠনের স্পষ্ট উল্লেখ ছিল—যেখানে বলা হয়েছে ঠাকুর বেশ হৃষ্টপুষ্ট ও উজ্জ্বল বর্ণের ছিলেন। মানুষ সাধারণত ঠাকুরের অসুস্থ ও শীর্ণকায় শেষ বয়সের ছবি দেখেই অভ্যস্ত ছিল, তাই এই রূপ দেখে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে তাতে ভক্তদের উৎসাহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি।

কিন্তু এর পরেই আসে সেই বড় ধাক্কা। কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই একদিন অরিন্দমকে জানিয়ে দেওয়া হয় তাঁকে শো ছাড়তে হবে। কোনো প্রতিবাদ না করে নিঃশব্দেই ধারাবাহিক থেকে সরে আসেন অভিনেতা।

দর্শকদের বয়কট ও ঐতিহাসিক প্রতিশোধ
অরিন্দমের জায়গায় অন্য এক অভিনেতাকে আনা হলে ঘটে বিপত্তি। ক্ষুব্ধ দর্শকমহল এতটাই বিরক্ত হয় যে বাধ্য হয়ে দূরদর্শন কর্তৃপক্ষকে ধারাবাহিকটিই বন্ধ করে দিতে হয়! এমনকী দর্শকের তুমুল দাবীতে পরবর্তীকালে শুধু অরিন্দম অভিনীত অংশগুলিই রিপিট টেলিকাস্ট করতে বাধ্য হয় চ্যানেল।

এই ঘটনায় মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন আর কোনোদিন কোনো আধ্যাত্মিক চরিত্রে অভিনয় করবেন না। সেই কারণেই পরবর্তীকালে ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’র অফারও ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু স্ত্রীর (খেয়ালি দস্তিদার) একটিমাত্র কথা—”মনে রেখো, এই চরিত্রটি কিন্তু তুমি বেছে নাওনি, মা নিজে চাইছেন”—তাঁর ভাবনা বদলে দেয়। পরে বামাক্ষ্যাপার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি যেমন বিপুল সম্মান পান, তেমনই যেন জীবনের বৃত্তও সম্পূর্ণ হয়। অভিনেতার দৃঢ় বিশ্বাস, এই সমস্তকিছুর নেপথ্যেই ছিল ‘মায়ের’ অদৃশ্য ইশারা।