‘শুধু নারীদের নয়, লিঙ্গ সমতা অর্জনে পুরুষদেরও সমান অংশীদার হতে হবে!’ বড় বার্তা মার্গদর্শী এমডি শৈলজা কিরণের

লিঙ্গ সমতা অর্জনের জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী ও পুরুষ উভয়কেই সমান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে গেলে উভয়কেই একসঙ্গে হাত মেলাতে হবে। হায়দরাবাদের বাগ লিঙ্গামপল্লিতে কাকা’স বিআর আম্বেদকর এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশনস আয়োজিত ‘উইমেন ইন লিডারশিপ: ব্রেকিং ব্যারিয়ার্স, বিল্ডিং লিগ্যাসিজ’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনারে যোগ দিয়ে ঠিক এমনই জোরালো বার্তা দিলেন মার্গদর্শী চিটফান্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর শৈলজা কিরণ। একই সঙ্গে তিনি ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতায়নে শিক্ষার অপরিসীম গুরুত্বের উপরও বিশেষ জোর দেন।
এদিনের সেমিনারে শিক্ষার্থী এবং নারীদের নতুন প্রযুক্তি সাদরে গ্রহণ করার আহ্বান জানান শৈলজা কিরণ। তবে একই সঙ্গে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, তা কখনই একজন প্রকৃত শিক্ষকের বিকল্প হতে পারে না। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নারীদের নানা লড়াইয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “নেতৃত্বে থাকা মহিলাদের প্রায়শই পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।” তাই নারীদের সামনে যে সমস্ত সুযোগ আসবে, তার সঠিক সদ্ব্যবহার করারও পরামর্শ দেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে তিনি জানান, মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি মার্গদর্শীর মতো সংস্থার নেতৃত্ব দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন।
উপস্থিত তরুণ প্রজন্ম ও নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জীবনে যত বাধাই আসুক না কেন, লক্ষ্য থেকে কখনোই সরে আসবেন না।” নারীদের নিজেদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার হতে এবং নিজস্ব উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। লিঙ্গ বৈষম্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, লিঙ্গ সমতাকে কেবল নারীদের একক সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। নারী ও পুরুষ উভয়েই যদি সমাজ বদলের এই দায়িত্ব কাঁধে নেন, তবেই প্রকৃত সমতা অর্জন করা সম্ভব।
শিক্ষকদের ভূমিকার প্রশংসা করে শৈলজা জানান, বাইরের জগতের মানুষ বোঝার আগেই শিক্ষকরা একজন শিক্ষার্থীর ভিতরের আসল প্রতিভা চিনতে পেরে যান। শিক্ষকতাকে একটি অত্যন্ত সম্মানজনক পেশা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি জীবনের নানা মূল্যবান পাঠও প্রদান করেন। বাবাসাহেব আম্বেদকরের আদর্শের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, আম্বেদকর শিক্ষাকে কেবল জীবিকা অর্জনের যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে দেখেননি, বরং একে ক্ষমতায়ন, মর্যাদা, স্বাধীনতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বিবেচনা করতেন।
বক্তব্য রাখার সময় বাবাসাহেব আম্বেদকরের একটি বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “মনের বিকাশ বা চিন্তাশক্তির চর্চাই হওয়া উচিত মানব অস্তিত্বের চূড়ান্ত লক্ষ্য।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, অনেক পেশায় কাজের ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে দেখা গেলেও, শিক্ষকদের অনেক সময় তাঁদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার সঠিক ফল দেখার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। উল্লেখ্য, হায়দরাবাদের এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সরোজা বিবেক এবং অধ্যাপক লিম্বাদ্রি ছাড়াও বহু শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।