“পুজোর আগে বাম্পার গিফট!”-১৫০ কোটির স্পেশাল প্যাকেজে মিলছে বিরাট ছাড়, রইল তালিকা

দুর্গাপুজোর আনন্দকে দ্বিগুণ করতে রাজ্যবাসীর জন্য এক দুর্দান্ত উপহার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর প্রাক্কালে সাধারণ মানুষের পকেটে স্বস্তি দিতে রাজ্য সরকারের তরফে নিয়ে আসা হয়েছে বিশেষ ‘ফেস্টিভ্যাল রেশন প্যাকেজ’। এই জনমুখী প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ১৫০ কোটি টাকা।

এই বিশেষ প্যাকেজের আওতায় সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে, অর্থাৎ একেবারে হাফ দামে পেয়ে যাবেন ১ কেজি চিনি, ১ কেজি ময়দা এবং ২৫০ গ্রাম সুজি। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার দাবি, ভারতের সংসদীয় বা রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসে দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে কোনো রাজ্য সরকার এ ধরনের স্পেশাল প্যাকেজ এর আগে দেয়নি। পাশাপাশি, প্যাকেজে দেওয়া খাদ্যসামগ্রীর গুণমান এবং সঠিক পরিমাপ বজায় রাখার বিষয়েও কঠোর আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

কারা পাবেন এই বিশেষ প্যাকেজ?

শনিবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে জানান, রাজ্যের প্রায় দুই কোটি পরিবারকে এই অর্ধেকমূল্যে আটা, চিনি এবং সুজি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই আটা ও চিনির টেন্ডার প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সুজির টেন্ডার প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। দুর্গাপুজোর ঠিক আগের সপ্তাহেই রেশনের দোকানগুলির মাধ্যমে এই সামগ্রীগুলি সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া আরও পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, সস্তায় পাওয়া এই চিনি, ময়দা বা সুজি পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির বাঁধাধরা নিয়ম নেই। রাজ্যের পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম বা রেশন ব্যবস্থার আওতায় থাকা প্রায় ২ কোটি ১২ লক্ষ পরিবারকেই এই ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা দেওয়া হবে। অর্থাৎ, পুজোর মরসুমে রেশন কার্ডের মাধ্যমে রাজ্যের যে কেউ এই কম দামের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

সরকারি প্যাকেজে কী থাকছে এবং দাম কত?

এই ফেস্টিভ্যাল প্যাকেজে ব্যক্তি প্রতি নয়, বরং প্রতিটি পরিবার পিছু সুনির্দিষ্ট পরিমাণ সামগ্রী বরাদ্দ করা হয়েছে। প্যাকেজটিতে থাকছে:

  • ১ কেজি ময়দা: মিলবে মাত্র ১৯ টাকায়।

  • ১ কেজি চিনি: দাম পড়বে মাত্র ৩০ টাকা।

  • ২৫০ গ্রাম সুজি: যার বর্তমান বাজারদর প্রতি কেজি ৪০ টাকা, তা এই প্যাকেজে মিলবে মাত্র ১০ টাকায় (অর্থাৎ ৫০০ গ্রামের দাম ২০ টাকা)।

ভবিষ্যতে কি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মিলবে?

রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী দিনে যদি রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি আরও অনুকূল ও শক্তিশালী হয়, তবে এই ধরনের খাদ্যসামগ্রী রাজ্যবাসীর হাতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যেও তুলে দেওয়া হতে পারে। আপাতত এবারের দুর্গোৎসবে রেশনের মাধ্যমে এই সামগ্রীগুলি অর্ধমূল্যে দেওয়া হলেও, ভবিষ্যতে তা ফ্রিতে দেওয়ার কথাও চিন্তাভাবনা করে দেখছে প্রশাসন।