জোর করে শাখা-সিঁদুর পরিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেল! গাইঘাটায় নাবালিকার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারে তোলপাড়

উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা এলাকায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এলাকারই এক যুবকের বিরুদ্ধে নাবালিকাকে জোর করে শাখা-সিঁদুর পরিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ছবি-ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল করার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। লাগাতার মানসিক নির্যাতন ও চরম অত্যাচারের জেরেই ওই মাতৃহারা নাবালিকা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় গাইঘাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই নাবালিকা তার ঠাকুমার কাছেই থাকত। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় এক বছর আগে এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু অভিযোগ, মাস তিনেক আগে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত যুবক একদিন ওই নাবালিকাকে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠায় এবং জোর করে তার হাতে শাখা-সিঁদুর পরিয়ে দেয়। এরপর তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, সেই ভয়ংকর মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও নিজের মোবাইলে বন্দি করে রাখে অভিযুক্ত। পরবর্তীতে সেই ছবি এবং ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় বা পরিবারের লোকজনের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নাবালিকাকে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল করা হতে থাকে।
পরিবারের আরও অভিযোগ, এই জঘন্য অপরাধমূলক কাজে অভিযুক্ত যুবককে সাহায্য করত তার নিজের মা-ও। ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে নাবালিকাকে বারবার ডেকে পাঠানো হতো এবং তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। দিনের পর দিন এই অকথ্য মানসিক চাপ ও হেনস্থা সহ্য করতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল ওই কিশোরী। অবশেষে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের স্পষ্ট দাবি, দীর্ঘদিনের এই মানসিক নিপীড়ন ও ব্ল্যাকমেলিং সহ্য করতে না পেরেই সে আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে।
যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি, তবে পরিবারের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত যুবক ও তার মায়ের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা ও পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরেই নাবালিকার মৃত্যুর আসল রহস্য ও সত্যতা প্রকাশ্যে আসবে।