শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ, অভিযোগমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান পদে সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে শপথ না করানোর আর্জি

জলপাইগুড়ি পুরসভার ভাবী চেয়ারম্যান হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়া সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে এখনই শপথ গ্রহণ না করানোর জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে নাগরিক সংসদ। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করানোর অভিযোগ থেকে তিনি মুক্ত হওয়ার পরই যেন তাঁকে ওই আসনে বসানো হয়, সেই আর্জি জানিয়েছেন নাগরিক সংসদের আহ্বায়ক পান্থ দাশগুপ্ত।

নাগরিক সংসদের দাবি:

পান্থ দাশগুপ্ত বলেন, “ঘটনাটি জানুয়ারি মাসের। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের মধ্যে একটা প্রতিক্রিয়া হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে যে অরাজকতা চলছে, তার এটা একটা দিক। জলপাইগুড়ি শহর নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। কিন্তু শহরের বুকে এমন ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি আরও বলেন, “ভিডিয়োটি এআই দিয়ে বানানো কি না, আজকের দিনে প্রযুক্তির যুগে ফরেনসিক তদন্ত হলেই সব প্রমাণ হয়ে যাবে। যদি ওই ভিডিয়ো মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে বিষয়টি থেকে তিনি (সৈকত চট্টোপাধ্যায়) মুক্ত হবেন। আর যদি ভিডিয়োটা সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে জলপাইগুড়ির সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা চাইব এই রকম লোক যাতে জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না হন।”

পান্থ দাশগুপ্ত সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান, “তাঁরা দয়া করে অভিযোগ মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই রকম একটি লোককে যেন এই ধরনের সরকারি পদে না বসান।”

তিনি অভিযোগ করেন, “যাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা, সেই শিক্ষিকা তাঁর দফতরকে জানানোর পরেও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সেই অভিযোগ কেবলমাত্র সরকারের শিক্ষা দফতরকে পাঠিয়েছিল। কিন্তু কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেনি। যিনি কাজটি করেছিলেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল।” তাঁর মতে, রাজ্যে সবস্তরে অরাজকতা চলছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:

জলপাইগুড়ি পুরসভার ভাবী চেয়ারম্যান হিসেবে নাম ঘোষণার আগেই এই ঘটনার ভিডিয়ো বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পর রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। যদিও সৈকত চট্টোপাধ্যায় ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। ভিডিয়ো সামনে আসার পরই জলপাইগুড়িতে নিন্দার ঝড় উঠেছে এবং বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলনে নেমেছে। প্রতিবাদ বিক্ষোভে পথে নেমেছে বিজেপিও।

জলপাইগুড়ির সাংসদ এবং বিজেপির জয়ন্তকুমার রায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “একজন প্রধান শিক্ষিকাকে কান ধরে ওঠবস করানো অত্যন্ত লজ্জার। একজন শিক্ষিত মানুষ, পেশায় আইনজীবী, তিনি এই কাজটা করতে পারলেন কী করে। কিন্তু পুরসভার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় এমন কাজটা কীভাবে করতে পারলেন ভাবতেই কেমন লাগছে। ক্ষমতার দম্ভ! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে এরকম লোকেদেরই প্রাধান্য বেশি। এই জন্য এরাই দাম বেশি পায়, এরাই চেয়ারম্যান হয়, বড় বড় পদে আসীন হয়।”