শালবনি জমি দুর্নীতি কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়! সুমিতের অফিসে টাকা পৌঁছে দিতেন প্রাক্তন বিধায়ক?

শালবনি জমি জালিয়াতি মামলায় এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল সিআইডি। মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, জমি কেলেঙ্কারির মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎকালীন আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায়ের অফিসে পৌঁছে দেওয়া হতো। সিআইডি সূত্রে খবর, এই টাকা লেনদেনের পুরো প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা।
তদন্তে নেমে সিআইডি ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই প্রাক্তন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী এবং সুজয় হাজরার ব্যক্তিগত চালকের বয়ান রেকর্ড করেছে। পাশাপাশি, দুই স্থানীয় ব্যবসায়ীর সাক্ষ্য এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা। ওই ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁরা নিজেদের চোখেই প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে সুমিত রায়ের হাতে নগদ টাকা তুলে দিতে দেখেছেন। সিআইডির দাবি, সুমিত রায়ের প্রভাব ও প্রতিপত্তির ভয়েই এতদিন ওই ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি।
২০১৮ থেকে ২০২১ সাল—এই চার বছর ধরে শালবনি জমি সংক্রান্ত জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চলেছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পুরো আর্থিক শৃঙ্খল বা মানি ট্রেইল কোথায় গিয়ে মিশছে, সেটাই এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সুমিত রায়ের আইনি রক্ষাকবচ বা অন্তর্বর্তী সুরক্ষা উঠে যাওয়ার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এরপর ভবানী ভবনে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তাঁর উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারেননি তদন্তকারীরা।
শুক্রবার কড়া নিরাপত্তায় সুমিত রায়কে মেদিনীপুর জেলা আদালতে পেশ করে সিআইডি। আদালত তাঁকে আট দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হেফাজতের প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন সুমিত। এই দুর্নীতির সঙ্গে আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, তদন্তের স্বার্থে এখনই তাঁদের নাম প্রকাশ করছে না সিআইডি। আগামী দিনে ধৃতকে জেরা করে এই জমি কেলেঙ্কারির নেপথ্যে থাকা বাকি প্রভাবশালী মুখগুলোকে সামনে আনা সম্ভব হবে বলেই আশা দেখছেন গোয়েন্দারা।