শরীরে হু হু করে বাড়ছে ব্লাড সুগার? অবহেলা করলেই বড় বিপদ, জেনে নিন ৫টি প্রাথমিক লক্ষণ!

রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে অনেকেই প্রথম দিকে তেমন গুরুত্ব দিতে চান না। অথচ দীর্ঘদিন ধরে রক্তে শর্করা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তা শরীরে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের এখনও ডায়াবিটিস ধরা পড়েনি, তাঁদের শরীরে এমন কিছু পরিবর্তন দেখা দেয় যেগুলি নীরব বিপদের আগাম সংকেত হিসেবে কাজ করে। চিকিৎসকদের মতে, এই লক্ষণগুলি সময়মতো চিনতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।
ব্লাড সুগার বাড়লে শরীরে যে ৫টি প্রধান লক্ষণ প্রকাশ পায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো—
ঘন ঘন প্রস্রাব পাওয়া: রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে কিডনি তা পুরোপুরি শোষণ করতে পারে না। ফলে প্রস্রাবের সঙ্গে বাড়তি গ্লুকোজ ও শরীরের জল বেরিয়ে যায়, যার জেরে বারবার প্রস্রাব পাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
অস্বাভাবিক তৃষ্ণা: অতিরিক্ত প্রস্রাবের ফলে শরীরে ডিহাইড্রেশন শুরু হয় এবং জল খাওয়ার পরেও মুখ শুকনো লাগা বা তৃষ্ণা না মেটার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
ঝাপসা দৃষ্টি: শর্করার তারতম্যের কারণে চোখের লেন্সের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, ফলে সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে।
ক্ষত শুকাতে দেরি: সামান্য কাটা-ছেঁড়া বা ক্ষত সারতে যদি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে, তবে তা রক্তে উচ্চ শর্করার অন্যতম বড় ইঙ্গিত।
বারবার ইনফেকশন: প্রস্রাবে অতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকার কারণে ছত্রাকের বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়, যার ফলে বারবার ইস্ট ইনফেকশনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই লক্ষণগুলির কোনো একটি থাকলেই যে ডায়াবিটিস হয়েছে এমন নয়, তবে একাধিক উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলে বা সমস্যা বারবার হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করানো উচিত। সময়মতো সচেতন হলে জীবনযাত্রার মান বদলে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।