শতাব্দীর বৃহত্তম অভিযান! কয়লা-বালি পাচার, কলকাতা-দুর্গাপুর সহ ২৪ জায়গায় ED-র তল্লাশি, নজর খারকার লেনদেনে

বহু কোটি টাকার অবৈধ কয়লা ব্যবসা ও পাচার চক্রের তদন্তে শুক্রবার ভোর থেকে একযোগে বৃহৎ অভিযান শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড মিলিয়ে অন্তত ৪২টি ঠিকানায় এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে প্রতিটি টিমের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, দুর্গাপুর, হাওড়া ও পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকা মিলিয়ে অন্তত ২৪টি ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। পাশাপাশি, ঝাড়খণ্ডের রাঁচি-সহ রাজ্য জুড়ে আরও ১৮টি জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের বাড়ি–অফিসে হানা

ইডি সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বেআইনি কয়লা খনন, পরিবহন ও বিপুল পরিমাণ কয়লা মজুত করে বহু কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগের সংশ্লিষ্ট নথি ও আর্থিক ট্রেল খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। সেই সূত্র ধরেই এই ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।

পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসায়ী নরেন্দ্র খারকা, অনীল গোয়াল, যুধিষ্ঠির ঘোষ এবং কৃষ্ণ মুরারি কয়ালের বাড়ি–অফিসে ইডির তল্লাশি চলেছে। ঝাড়খণ্ডে তল্লাশির আওতায় রয়েছেন অনীল গোয়াল, সঞ্জয় উদ্ধোগ, এলবি সিং এবং অমর মণ্ডল। তদন্তকারীরা তাঁদের আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি বিনিয়োগ, ডিজিটাল ডেটা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সম্পত্তির ডকুমেন্ট সংগ্রহে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ফের তদন্তের কেন্দ্রে নরেন্দ্র খারকা

কয়লা পাচার মামলায় ব্যবসায়ী নরেন্দ্র খারকার নাম আগেও সামনে এসেছিল। এর আগে দিল্লিতে তাঁকে তলব করেছিল ইডি। ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল শক্তিগড়ে কয়লা ব্যবসায়ী রাজু ঝা খুনের ঘটনাতেও তাঁর নাম উঠে আসে। বর্তমান তল্লাশিতে তাঁর সঙ্গে যুক্ত সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ সংগ্রহ করছে ইডি।

ইডি-র অনুমান, এই বেআইনি কয়লা চক্রে কয়েকশো কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ওই অর্থের উৎস, রুট ও চূড়ান্ত গন্তব্য শনাক্ত করাই এখন তদন্তের প্রধান লক্ষ্য।

বালি পাচার মামলাতেও তৎপরতা

কয়লা কারবারের পাশাপাশি বালি পাচার মামলাতেও সক্রিয়তা বাড়িয়েছে ইডি। গত সেপ্টেম্বর মাসে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে শেখ জহিরুল শেখের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পরে সেই মামলার সূত্র ধরে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়াতেও তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা।

বাজেয়াপ্ত নথি ও ডিজিটাল ডেটা বিশ্লেষণের পর নতুন সমন জারি হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী গ্রেপ্তারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে ইডি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। তদন্তকারী মহলের মতে, পূর্বাঞ্চলের কয়লা ও বালি পাচার চক্রের বিরুদ্ধে এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তৃত ও সমন্বিত অভিযান।