নমস্কার, আজকের ‘লেটস ডিসকাসে’ আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি সুপ্রিয়।
১৩ ডিসেম্বর রাতে ফুটবল ঈশ্বরের বরপুত্র, লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi) কলকাতায় নামলেন। সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। সকালে স্পনসরদের অনুষ্ঠান, ভার্চুয়ালি মূর্তির উদ্বোধন—সবই চলছিল ঠিকঠাক। আর তারপরই আর্জেন্টাইন মহাতারকা রওনা হলেন যুবভারতীর উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেই মুহূর্তে কি কেউ জানত যে, মেসির যুবভারতী অধ্যায়ই হতে চলেছে কলকাতার ইতিহাসে অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায়! আজ সেই বিশৃঙ্খলা নিয়েই আলোচনা করব আমরা।
বৃত্ত সম্পূর্ণ, কিন্তু স্মৃতি সুখকর নয়
২০১১ সালে এই যুবভারতী মাঠ থেকেই আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল আন্দ্রেস মেসির যাত্রা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ ১৪ বছর পর সেই মাঠেই ফিরলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বলা যায়, একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো। কিন্তু সেই স্মৃতি তাঁর খুব যে সুখকর হলো, এমনটা একেবারেই নয়।
মেসি তখন মাঠে। কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সংবর্ধনা দেবেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মাঠে এসে পৌঁছানোর আগেই শুরু হয় দর্শকদের মধ্যে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, মেসিকে তড়িঘড়ি মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে হয়। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হায়দরাবাদের উদ্দেশ্যে। এমনকি যে ২০ জন ক্ষুদে ফুটবলারের সঙ্গে তাঁর ফুটবল ক্লিনিক করার কথা ছিল, সেই ক্লিনিকটিও বাতিল হয়ে যায়। মাঝপথ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়কেও ফিরে আসতে হয় মেট্রোপলিটনের কাছ থেকে।
কেন ক্ষেপে গেল ফুটবল পাগল দর্শক?
মূল প্রশ্ন এটাই—কেন কলকাতার ফুটবল পাগল দর্শক এত ক্ষিপ্ত হয়ে গেল?
গোট ট্যুরের ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই একবার মেসিকে চোখের দেখা দেখার জন্য দর্শকদের মধ্যে চরম আকুতি ছিল। আর টিকিট? হটকেকের মতো টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ। কিন্তু এহেন মেসি যখন মাঠে এলেন, তখন তাঁকে ঘিরে ছিল অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ভিআইপি অতিথিরা। সাধারণ দর্শকদের অভিযোগ, $70$–$80$ জন মানুষ মেসিকে ভিড় করে ছিলেন। ফলে গ্যালারি থেকে তাঁকে দেখাই যায়নি ভালো করে।
আর এর ফলেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়। প্রথমে মাঠের দিকে উড়ে আসে জলের বোতল। তারপর বাকেট চেয়ার ভেঙে ছোড়া হয়। দর্শকরা ফেন্সিং ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়ে। মাঠের ভিতরে থাকা সোফায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, যা পরে পুলিশ বোতলের জল দিয়ে নেভায়।
প্রশাসন ও রাজনীতির প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেসি-সহ সকল দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এর পরপরই তিনি একটি তদন্ত কমিটি তৈরির নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও আয়োজকদের তীব্র সমালোচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন:
“অপদার্থ আয়োজক কেন ন্যূনতম পরিকল্পনার ছাপ রাখল না? শুধু টাকা? শুধু ব্যবসা? এই আয়োজক আর কিছু হ্যাংলার জন্য সবাই বঞ্চিত হল।”
ঘটনার পর রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার সাংবাদিক বৈঠকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন:
“টিকিট ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে উদ্যোক্তারা যদি সঠিক ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। আমরা ইতিমধ্যেই মূল উদ্যোক্তাকে আটক করেছি। এই বিশৃঙ্খলা নিয়ে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কেউ ছাড় পাবে না।”
এডিজি আইন-শৃঙ্খলা জাভেদ শামিম জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং প্রত্যেকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে গিয়েছেন।
যুবভারতীর এই ঘটনা গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে। আগামীতে কী হয়, তদন্ত কমিটি কী রিপোর্ট দেয় এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব। আর আপনি নজর রাখুন টিভি নাইন ডিজিটালে।
উপস্থাপক (সুপ্রিয়): আজকের মতো এটুকুই। শুনতে থাকুন লেটস ডিসকাস।