“শাহরুখের মতো ‘৫৫৫’ ক্রেইজ!”-১৫ বছরের ছেলেকে BMW গাড়ি কিনে দিলেন পূর্ব বর্ধমানের ব্যবসায়ী!

ছেলে স্কুলে ভালো রেজাল্ট করলে বাবা-মা কী উপহার দেন? গল্পের বই, নতুন স্কুল ব্যাগ, সাইকেল কিংবা বড়জোড় একটি সাধারণ গ্যাজেট। কিন্তু পূর্ব বর্ধমানের গলসির এক ব্যবসায়ীর কাণ্ড দেখলে যে কারও চোখ কপালে উঠবে! হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষায় ভালো ফল করার অপরাধে ছেলেকে তিনি উপহার দিলেন আস্ত একটি BMW M4 Competition, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা!

কেন আলোচনায় এই উপহার?

পূর্ব বর্ধমানের গলসির শ্রীচৈতন্য টেকনো স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র তালহা। সম্প্রতি তার স্কুল পরীক্ষার ফলাফল বেরনোর পরই ছেলের আবদার মেটাতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি তার বাবা সামসুদ্দিন মিদ্দ্যা। ঠিক কত নম্বর সে পেয়েছে, তা নিয়ে মুখে কুলুপ আঁটলেও, ছেলের পড়াশোনার সাফল্যে বেজায় খুশি বাবা। আসলে অনেক দিন আগেই একটি BMW গাড়ির শখ প্রকাশ করেছিল তালহা। আর রেজাল্ট হাতে পেতেই আর দ্বিতীয়বার ভাবেননি সামসুদ্দিন।

আরবের শেখের মতো লাইফস্টাইল ও গাড়ির বহর

গলসি নিবাসী সামসুদ্দিন মিদ্দ্যা তাঁর এলাহি জীবনযাত্রার জন্য এলাকায় বেশ পরিচিত। আরবের শেখদের কায়দায় জেব্বা ও মাথায় পাগড়ি পরা এই ব্যবসায়ীর গলসিতে রয়েছে চারটি বিশাল রাইস মিল। শুধু তাই নয়, চিন ও ভিয়েতনামের মতো দেশে চাল রপ্তানিও করেন তিনি। অঢেল সম্পত্তির মালিক সামসুদ্দিনের কাছে কোটি টাকার গাড়ি কেনা এমন কিছু বড় ব্যাপার নয়। কারণ গাড়ি তাঁর সবচেয়ে বড় শখ।

তাঁর ব্যক্তিগত গ্যারাজে ইতিমধ্যেই শোভা পাচ্ছে রেঞ্জ রোভার (Range Rover), ভলভো (Volvo), থার (Mahindra Thar) এবং হুন্ডাই অ্যালকাজ়ারের (Hyundai Alcazar) মতো বিলাসবহুল গাড়ি। ছেলের ভালো রেজাল্টের খবর পাওয়া মাত্র তিনি সোজা মুম্বই পাড়ি দেন এবং অন্ধেরির নামী শোরুম থেকে সোজা কিনে ফেলেন কচিকলাপাতা রঙের ঝকঝকে ওই BMW M4 Competition।

ভিআইপি নম্বর প্লেটের আকর্ষণ এবং আইনি বিতর্ক

শুক্রবার একটি স্পেশাল কন্টেনারে করে সেই প্রিমিয়াম গাড়ি এসে পৌঁছায় সোজা বর্ধমানের গলসিতে। নতুন গাড়ি দেখে সামসুদ্দিনের মুখে চওড়া হাসি। তবে শুধু গাড়ি কেনাই নয়, নিজের পছন্দের ‘৫৫৫’ ভিআইপি নম্বর প্লেট পেতেও জলের মতো টাকা খরচ করেছেন তিনি। বলিউডের বাদশা শাহরুখ খানের মতো তাঁরও প্রতিটি গাড়ির শেষের তিনটি সংখ্যা থাকে ‘৫৫৫’। অভিনেতা না হলেও তাঁর অর্থের বহর যে কম নয়, তা স্পষ্ট।

তবে এই পুরো ঘটনার মাঝেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। তালহার বয়স সবেমাত্র ১৫ বছর। আইন অনুযায়ী গাড়ি চালানোর কোনো লাইসেন্সই তার নেই। স্বাভাবিকভাবেই নাবালকের হাতে কোটি টাকার গাড়ি তুলে দেওয়া নিয়ে নিরাপত্তা ও আইনগত প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও তালহা জানিয়েছে, সে একা গাড়ি নিয়ে বেরোবে না; সপ্তাহে একদিন বাবা চালাবে আর সে পাশে বসে রাইড উপভোগ করবে।

ছেলের রেজাল্টের আনন্দ নাকি নতুন গাড়ি কেনার উত্তেজনা—কোনটিতে সামসুদ্দিন বেশি খুশি, তা স্পষ্ট না হলেও, পূর্ব বর্ধমানের এই বিলাসবহুল উপহারের গল্প এখন রীতিমতো টক অফ দ্য টাউন!