লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের পর দিল্লিজুড়ে হাই অ্যালার্ট! মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৩৪টি পরিত্যক্ত গাড়ি বাজেয়াপ্ত, জনসমাগমের স্থানে বাড়ল সশস্ত্র বাহিনী

দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর রাজধানীজুড়ে ফের হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। শনিবার রাত থেকেই দিল্লি পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করেছে এবং বিভিন্ন স্তরে তাদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।

বিশেষ নজরদারি অভিযান:

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিশেষ নজরদারি অভিযানে (Red Fort blast aftermath) দিল্লি পুলিশ ৩৪টি পরিত্যক্ত গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। পাশাপাশি, ৫ ঘণ্টা ধরে চালানো চেকিংয়ে দিল্লি পুলিশ অ্যাক্ট অনুযায়ী ৪১৭টি চালান কাটা হয়েছে। এই অভিযান হঠাৎ করেই চালানো হয়, যাতে কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখ এড়িয়ে না যায়।

নিরাপত্তায় সর্বস্তরের সমন্বয়:

কেন্দ্রীয় রেঞ্জের জয়েন্ট কমিশনার মধুর বর্মার নেতৃত্বে জেলা ডিসিপি, এসিপি, এসএইচও এবং বিশেষ ইউনিটগুলির সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক চলছে। পুলিশ নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নিম্নলিখিত পক্ষগুলিকে যুক্ত করছে:

বাজার কমিটি, দোকানদার, RWA (রেসিডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন), এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী।

পুলিশের মতে, নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া এমন কঠোর নজরদারি সফল করা প্রায় অসম্ভব।

ব্যস্ত এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি:

রাজধানীর ব্যস্ত বাজার, ধর্মীয় স্থান, পর্যটন কেন্দ্র, মেট্রো স্টেশন, মল, সিনেমাহল—যে সব জায়গায় জনসমাগম বেশি, সেখানে সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি, যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে, তার জন্য নিয়মিত মক ড্রিল, সারপ্রাইজ অভিযান এবং এলাকা ভিত্তিক পেট্রলিং চলছে।

খুঁটিনাটি যাচাইয়ে জোর:

এছাড়াও, পুলিশ সন্দেহজনক ব্যক্তিরা ছদ্মবেশে না ঢুকতে পারে, তার জন্য নিম্নলিখিত জায়গাগুলিতে খুঁটিনাটি যাচাই চালাচ্ছে:

হোটেল, গেস্ট হাউস, সাইবার ক্যাফে, রাসায়নিক দোকান, সিমকার্ড বিক্রেতা এবং বাণিজ্যিক এলাকা।

ভাড়াটিয়া, শ্রমিক, গৃহকর্মী, নিরাপত্তারক্ষীদের তথ্যও খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছে যে, রাস্তায় কোনও সন্দেহজনক ব্যাগ, গাড়ি বা মানুষ দেখলে অবিলম্বে যেন পুলিশকে জানানো হয়। দিল্লি পুলিশ দাবি করেছে, রাজধানীকে আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে তাই টানা নজরদারি বহাল থাকবে।