“গুজরাটেও কি এসআইআর হেরেছিল?” রাহুল গান্ধীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন অমিত শাহ!

এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে লাগাতার আক্রমণ করে চলেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। আর এবার সেই সমস্ত অভিযোগের কড়া জবাব দিয়ে কংগ্রেস সাংসদকে সরাসরি পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “আমি রাহুল গান্ধীকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, গুজরাটে কংগ্রেস কি এসআইআর-এর জন্যই হেরেছিল?”

এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুজরাটের পৌরসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি দুর্দান্ত জয় পেয়েছে। অথচ দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে গুজরাটের মাটিতে একটিও নির্বাচনে জিততে পারেনি কংগ্রেস। এই দীর্ঘ সময় ধরে পরাজয়ের ধারা অব্যাহত থাকার পরও আত্মোপলব্ধি না করে বারবার ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে তোপ দাগেন তিনি। রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে অমিত শাহ বলেন, রাজ্যে যেখানে একসময় তাদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ছিল, সেখানে দশকের পর দশক ধরে একটি আসনেও জয় না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরে গভীর আত্মবিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

উপনির্বাচনের ফলাফলে ধূলিসাৎ কংগ্রেস

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরি—এই তিনটি রাজ্যে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনের পরিসংখ্যান টেনে কংগ্রেসকে একহাত নেন অমিত শাহ। তিনি জানান, এই উপনির্বাচনে কংগ্রেস পার্টি একটিমাত্র আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি। নগাঁও আসনে বিজেপি প্রার্থী ১ লক্ষ ৪২ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে কংগ্রেসের হাত থেকে আসনটি ছিনিয়ে নিয়েছেন।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ১ লক্ষ ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন এবং রাজনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে আসন কেড়ে নিয়ে ৭৫ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। এছাড়া পুদুচেরিতে এনডিএ জোটের প্রার্থী ৮,৪৮২ ভোটে জয়ী হয়েছেন, যেখানে কংগ্রেস মাত্র ২২ শতাংশ ভোটেই সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হয়েছে।

কংগ্রেস নেতৃত্বকে চরম আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তাদের চতুর্থ পরাজয়ের জন্য এখন থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা উচিত।