“লস্কর যোগ-পাকিস্তানি নম্বরে কথা”-সোনার দোকানে কাজ করা বাংলার যুবকের কাণ্ডে তোলপাড়

পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার (LeT) সঙ্গে যোগাযোগের সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের এক যুবকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করল কর্নাটক পুলিশ। ধৃত ওই যুবকের নাম মামাতাজুল মল্লিক (১৮)। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর মোবাইল ফোন খতিয়ে দেখে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবকের ফোনে পাকিস্তানের কান্ট্রি কোড (+৯২) যুক্ত একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যপদ এবং বেশ কিছু সন্দেহজনক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের হদিস মিলেছে।
ঠিক কীভাবে পুলিশের নজরে এল যুবক?
পুলিশ সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা মামাতাজুল মল্লিক ও মেহরাজ মল্লিক নামে দুই যুবক কর্নাটকের কালাবুর্গির সরফ বাজার এলাকার একটি সোনার গয়নার দোকানে কাজ করত। গণেশ মন্দিরের কাছে পাদাশেট্টি কমপ্লেক্সের ওই দোকানে তাদের গতিবিধি ও কার্যকলাপ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি নজরে আসতেই আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) চক থানার পুলিশ ইনস্পেক্টরকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
গত ১৭ অক্টোবর প্রথমে দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরের দিন তাদের ফের থানায় হাজির হতে বলা হয়। তল্লাশির সময় মেহরাজ মল্লিকের ফোনে আপত্তিকর কিছু না মেলায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মামাতাজুলের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করতেই তদন্তকারীদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। তাঁর ফোনে একাধিক সন্দেহজনক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং পাকিস্তানি নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মেলে।
ইনস্টাগ্রামে জঙ্গিসংযোগ ও দেশবিরোধী প্ররোচনা!
পুলিশের এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, মামাতাজুল ‘ansari ikhwan’ নামে একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। অভিযোগ, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ‘Kashmiritiger.313’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট ফলো করা হতো, যার বায়ো-তে লেখা ছিল ‘I love Pakistan, I love Kashmir’।
পাশাপাশি ‘major_iqbal._isi’ নামের আরেকটি অ্যাকাউন্টও তাঁর ফলো করা তালিকায় ছিল, যাকে তদন্তকারীরা লস্কর-ই-তইবার ‘হেড কমান্ডার’-এর অ্যাকাউন্ট বলে দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, পাকিস্তান-সংর্কান্ত বিভিন্ন উস্কানমূলক ভিডিও রিডসে লাইক দেওয়া এবং সেগুলি শেয়ার করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
পাকিস্তানি নম্বরযুক্ত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ এবং জাইনুল আবেদিনের যোগ
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, মামাতাজুল ‘Imam Mehndi’ এবং উর্দু ভাষার অন্য একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিল। ওই গ্রুপগুলি খতিয়ে দেখেই পাকিস্তানের কান্ট্রি কোড (+৯২) যুক্ত একাধিক ফোন নম্বর নজরে আসে।
জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মামাতাজুল জানিয়েছে, জাইনুল আবেদিন নামে এক ব্যক্তি তাকে ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করেছিল। পুলিশের অভিযোগ, ওই জাইনুল আবেদিন আসলে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবারই এক কমান্ডার।
মোবাইল বাজেয়াপ্ত ও জোরকদমে তদন্ত
তদন্তের স্বার্থে মামাতাজুলের মোবাইল ফোনটি পুরোপুরি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ফোনে থাকা কিছু সন্দেহজনক ছবি ও ভিডিওর প্রিন্টআউট নিয়ে অভিযোগপত্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জনশান্তি এবং আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে বিষয়টি সরাসরি জড়িত থাকায় কালাবুর্গির ব্রহ্মপুর থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১১৩(৩) এবং ১৯৭(১) ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের এই যুবকের সঙ্গে সত্যিই কোনও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এখন সাইবার সেল ও গোয়েন্দারা যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।