লক্ষ্মীপূজোর পর আবার দুর্গাপূজা! ১০০ বছর ধরে পঞ্জিকা না মেনে ছুটির দিনে দেবী আরাধনা এই বাংলায়

সারাবছরের প্রতীক্ষা শেষে উমা বিদায় নিলে যখন বাঙালির মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই জলপাইগুড়িতে বেজে ওঠে ঢাকের আওয়াজ। কোনো তিথি মেনে নয়, এমনকি পঞ্জিকার বিধান মেনেও নয়! প্রতি বছর লক্ষ্মীপূজার ঠিক পরবর্তী রবিবার, ছুটির দিন দেখে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয় জলপাইগুড়ির রংধামালির সিদ্ধবাড়িতে। গত ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই অনন্য ও ব্যতিক্রমী পূজাকে কেন্দ্র করে আনন্দে মেতে ওঠেন গোটা এলাকার মানুষ।
এক দিনেই ষষ্ঠী থেকে দশমী
জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের রংধামালির মোড়লপাড়ায় সিদ্ধবাড়ির পূজাটি আর পাঁচটি সাধারণ দুর্গাপূজার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। ঐতিহ্যবাহী এই পরিবারের পূজা মাত্র একদিনেই সাঙ্গ হয়। অর্থাৎ একই দিনে দেবী দুর্গার ষষ্ঠী পূজা থেকে শুরু করে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী বিহিত পূজা এবং দশমীর বিসর্জন—সব নিয়মই মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করা হয়। ছয় পুরুষ ধরে চলে আসা এই ‘অকাল দুর্গাপূজা’ দেখতে প্রতি বছরই উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
ইতিহাস ও সিদ্ধ বাড়ির ঐতিহ্য
পারিবারিক ইতিহাস সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু বছর আগে এই ব্যতিক্রমী পূজার সূচনা করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্ধিনাথ রায়। তিনি যেহেতু স্বনামধন্য ব্যক্তি ছিলেন এবং তাঁর হাত ধরেই এই পূজার সূত্রপাত, তাই কালক্রমে এটি ‘সিদ্ধবাড়ির পূজা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে তাঁর বংশধরেরা অর্থাৎ পরিবারের নবপ্রজন্ম অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পারিবারিক এই শতবর্ষ প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রেখেছেন।
আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মিলনমেলা
পূজার নিয়মকানুন ও নির্ঘণ্ট অদ্ভুত হলেও, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বিন্দুমাত্র খামতি থাকে না। সিদ্ধবাড়ির পূজার দিন পরিবারের সদস্যরা যে যেখানেই কর্মসূত্রে বা পড়াশোনার সূত্রে থাকুন না কেন, এই বিশেষ ছুটির দিনটিতে বাড়িতে ফিরে আসেন। মূল পূজার পাশাপাশি দিনভর চলে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা আত্মীয়স্বজনদের মিলনমেলা।
দশমীর বিষাদের পর যেখানে সব মণ্ডপ ফাঁকা হয়ে যায়, সেখানে সিদ্ধবাড়ির এই একদিনের উল্টো দুর্গাপূজা জলপাইগুড়িবাসীকে ফের একবার উৎসবের আমেজে ভাসিয়ে দেয়।