মাদকাসক্ত ছেলেকে খুন করতে ৫ লাখের সুপারি দিলেন নিজেরই জন্মদাতা বাবা! উত্তরপ্রদেশে চরম নৃশংসতা

রক্তের সম্পর্ককেও যেন কলঙ্কিত করল এক মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। উত্তরপ্রদেশের জালাউন জেলায় নিজের জন্মদাতা সন্তানকেই খুন করার উদ্দেশ্যে ৫ লাখ টাকার সুপারি দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠল এক বাবার বিরুদ্ধে। যে পিতা একসময় ছেলেকে মাদকের অন্ধকার জগৎ থেকে ফেরাতে রিহ্যাবিলেশন বা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করিয়েছিলেন, সেই পিতাই যে সন্তানের সুপারি কিলার হয়ে উঠবেন—তা ভেবে শিউরে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মূল অভিযুক্ত বাবাসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

মাদকাসক্তি ও নিত্যদিনের অত্যাচারেই কি চরম পদক্ষেপ?

পুলিশি তদন্তে প্রকাশ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্তের ছেলে দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক মাদকাসক্তিতে ভুগছিল। মাদকের টাকার জন্য প্রতিনিয়ত বাড়িতে অশান্তি, অত্যাচার ও বেপরোয়া আচরণ চালিয়ে যাচ্ছিল সে। পরিবারের সদস্যরা তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং একপর্যায়ে তাকে রিহ্যাব সেন্টারেও পাঠানো হয়। তবে সেখান থেকে ফেরার পরেও তরুণের আচরণের কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ছেলের অনবরত মানসিক অত্যাচার ও দৈনন্দিন বিশৃঙ্খলায় অতিষ্ঠ হয়েই শেষপর্যন্ত চরম ও নৃশংস পথ বেছে নেন বাবা। ছেলেকে চিরতরে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে এক দুষ্কৃতীকে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে হত্যার চুক্তি (সুপারি) দেন তিনি।

পুলিশের তদন্ত ও ৪ জন গ্রেফতার

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এবং প্রাথমিক সন্দেহ ধরে এগোতেই জালাউন জেলা পুলিশের তদন্তে সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের জট খুলে যায়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবা এবং চুক্তিতে যুক্ত থাকা আরও তিন সুপারি কিলারকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে।

এই ঘটনার পেছনে আর কোনো গোপন বিবাদ কিংবা পারিবারিক সম্পত্তি সংক্রান্ত গণ্ডগোল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ধৃত চারজনকে মুখোমুখি বসিয়ে কড়া জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র জালাউন এলাকা জুড়ে তীব্র শোরগোল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।