রেস্তোরাঁয় পচা মাংসের ভয়ঙ্কর বিষ! জানলে শিউরে উঠবেন প্রতিদিন খাচ্ছেন কী?

শহরের নামী-দামি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ফাস্টফুডের দোকান—বাইরে থেকে ঝকঝকে মনে হলেও অন্দরের ছবিটা অত্যন্ত ভয়াবহ। কোথাও মেয়াদ উত্তীর্ণ পচা মাংস, কোথাও বাসি মাছ, আবার কোথাও খাবারে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক ও ক্ষতিকর রং। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা লাগাতার অভিযানের পর মোট চল্লিশটি সংস্থাকে লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে কলকাতা পুরসভা। প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে আমরা যে খাবারগুলো পেটে চালান করছিলাম, তার পরিণতি কী? এই বিষাক্ত খাবারগুলো কি নিঃশব্দে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে আমাদের? চিকিৎসকদের কথায় যে তথ্য সামনে এসেছে, তা সত্যি শিহরণ জাগানোর মতো।
বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. প্রভাসপ্রসূন গিরি জানাচ্ছেন, পচা মাংস বা মাছের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু ও ফাঙ্গাস শরীরের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর জেরে মারাত্মক ফুড পয়জনিং হতে পারে। শুধু তাই নয়, ফুড পয়জনিং থেকে উৎপন্ন টক্সিন শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে ডেকে আনতে পারে টক্সিক শক সিনড্রোম, মারাত্মক ডায়রিয়া এবং কিডনি ফেইলিউর বা মাল্টি অর্গান ডিসফাংশনের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি। এমন বিষাক্ত খাবার খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউ-তে ভেন্টিলেশনে বা ডায়ালিসিসের টেবিলে জীবন মৃত্যুর লড়াই লড়ছেন এমন বহু রোগী ইতিমধ্যেই চিকিৎসকদের নজরে এসেছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান গোটা বিশ্বকে নতুন করে ভাবাতে বাধ্য করেছে। হু-র রিপোর্টে বলা হয়েছে, দূষিত এবং অসুরক্ষিত খাবার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট তৈরি করেছে। এই ধরনের বিষাক্ত খাবার খেয়ে প্রতি বছর পৃথিবীতে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন প্রায় ৮৬ কোটিরও বেশি মানুষ। এই দূষণের পেছনে কেবল ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস নয়, বড় ভূমিকা রয়েছে বিপজ্জনক রাসায়নিকের।
চিকিৎসক বিপ্রেশ চক্রবর্তী সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, খাবার যদি টাটকা না হয়ে দীর্ঘক্ষণ বাসি বা ভুল উপায়ে সংরক্ষিত হয়, তবে তা থেকে অ্যাকিউট গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস এবং মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে। যার ফলে হঠাৎ শুরু হতে পারে বমি ও মারাত্মক লুজ মোশন। অন্যদিকে, পুষ্টিবিদ স্বাগতা মুখোপাধ্যায় জানাচ্ছেন, রান্নার সময় সমস্ত খাবার খুব বেশিক্ষণ ধরে বা অতিরিক্ত আঁচে ফোটানো হয় না, ফলে খাবারের মধ্যে থাকা অদৃশ্য ফাঙ্গাস ও জীবাণুগুলো সরাসরি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে হজমশক্তি চিরতরে নষ্ট করে দিচ্ছে।