রেশন কার্ডের লাইনে চরম দুর্নীতি! সাধারণ মানুষের হেনস্থা দেখে লাইভ ক্যামেরায় মন্ত্রী যা করলেন, দেখেই শিউরে উঠবেন!

রাজ্যজুড়ে সরকারি পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে গাফিলতি এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের হয়রানির চিত্র যে কোনো মুহূর্তে কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত ও তীব্র চাঞ্চল্যকর উদাহরণ সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। বনগাঁ বিডিও অফিস সংলগ্ন স্থানীয় খাদ্যদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে সাধারণ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ, ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাজ না হওয়ার দীর্ঘ অভিযোগ এবং কর্মী ও আধিকারিকদের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কথা কানে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। সাধারণ মানুষের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও হেনস্থার সত্যতা সামনে আসতেই তিনি একেবারে ঝটিকা সফরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের অত্যন্ত কড়া ভাষায় ধমক দেন।
স্থানীয় সূত্রে দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে, সাধারণ মানুষ রেশন কার্ড সংশোধন, নতুন নাম তোলা কিংবা অন্যান্য অত্যন্ত জরুরি সরকারি কাজের জন্য মাসের পর মাস এই দপ্তরের চত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের প্রধান অভিযোগ ছিল যে, দপ্তরের কর্মীরা নিয়মমতো সকালবেলা অফিসে আসেন না, অধিকাংশ দিনই বেলা ১১টার আগে কার্যালয়ের ফ্লোরে তাদের দেখা মেলে না। এর পাশাপাশি, ঘড়ির কাঁটায় দুপুর দুটো বাজলেই তারা সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ করে দপ্তর ছেড়ে বেরিয়ে যান। এছাড়াও সামান্য কিছু ত্রুটি বা অনলাইন প্রক্রিয়ার কাজ থাকলে ইচ্ছে করেই ‘সার্ভার ডাউন’ বা ‘লিংকের সমস্যা’-র খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে দিনের পর দিন মানুষকে ঘুরিয়ে মারা হয়। এমনকি, এক অসহায় মহিলার রেশন কার্ড সংশ্লিষ্ট কর্মীরা অবলীলায় দূরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন—এমন অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগও মন্ত্রীর কানে পৌঁছায়।
এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর ও অপমানজনক অভিযোগ শোনার পর আর নিজেকে সংযত রাখতে পারেননি খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। ঘটনাস্থলেই উপস্থিত সার্কেল ইনস্পেক্টর ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিকে কড়া চোখ রেখে তিনি অত্যন্ত হুঁশিয়ারির সুরে সাফ জানিয়ে দেন, “কোথায় পাঠিয়ে দেব, নিজেও টের পাবেন না!” তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় স্পষ্ট করে দেন যে, সাধারণ মানুষের কষ্টের টাকায় চলা সরকারি অফিসে এমন জঘন্য গাফিলতি এবং জনবিরোধী মনোভাব কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না। মন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম অবহেলা দেখলেই বিভাগীয় স্তরে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।