বিশ্ব বাজারে লাগাতার চড়ছে তেলের পারদ! কলকাতার বাজারে আজ কত যাচ্ছে জ্বালানির খরচ?

বিশ্ব বাজারে বর্তমানে অপরিশোধিত বা ক্রুড অয়েলের (Crude Oil Price) দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ইতিমধ্যেই ১০০ ডলারের গণ্ডি পার করে ১০৮ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বিগত এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে অপরিশোধিত তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের জ্বালানি বাজারকে বড়সড় উদ্বেগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে যে, এর জেরে কি এবার দেশের বাজারেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম হু হু করে বাড়বে? কলকাতার বাজারে আজ জ্বালানির দর ঠিক কত রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।দেশের জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ২৫ মে দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। সেই সময় পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে ২.৭ টাকা এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ২.৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। তারপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বিভিন্ন মেট্রো শহরে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিতই রয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ছ’টায় নতুন দর নির্ধারিত হয়। বর্তমানের তালিকা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রধান শহরে জ্বালানির ছবিটা ঠিক কেমন, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:শহরপেট্রোলের দাম (প্রতি লিটার)ডিজেলের দাম (প্রতি লিটার)দিল্লি১০২.১২ টাকা৯৫.২০ টাকামুম্বই১১১.৩১ টাকা৯৭.৯৭ টাকাকলকাতা১১৩.৫১ টাকা৯৯.৮২ টাকাচেন্নাই১০৭.৭৮ টাকা৯৯.৫৬ টাকাগুরুগ্রাম১০২.৯৭ টাকা৯৫.৯৪ টাকাপটনা১১৩.৩৫ টাকা৯৯.৩৬ টাকানাগপুর১১১.৯০ টাকা৯৮.২০ টাকাশ্রীনগর১০৪.১০ টাকা৯২.৮১ টাকাইন্দোর১১৪.৩২ টাকা৯৯.৪১ টাকাঅর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ডলার বাড়লেও তার প্রত্যক্ষ প্রভাব সরাসরি ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে এসে পড়ে। বিগত জুলাই মাসের পর গত ৯ সেপ্টেম্বর ফের বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তিন অঙ্কের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ইতিমধ্যেই পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে লেনদেন মার্কিন ডলারে হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভের ওপর, যা প্রকারান্তরে ভারতীয় টাকার মানকে দুর্বল করে তোলে। ভারতে পরিবহণ খরচ বাড়লে তা সরাসরি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজারে আগুন ধরাতে পারে, যা সাধারণ মধ্যবিত্তের পকেটে বড় ধরনের কোপ বসাতে বাধ্য।