“রেল দুর্ঘটনায় কেউ ক্ষমা চায় না, মমতা চেয়েছেন!” যুবভারতী-কাণ্ডে বিরোধীদের ‘রাজনীতি’ রুখতে ময়দানে অভিষেক

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠানে চরম বিশৃঙ্খলা এবং তার জেরে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়া নিয়ে ফের সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট জানান, এই ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমা চেয়ে যে সৌজন্য দেখিয়েছেন, তা ভারতের অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা দেখান না।

মমতার সৌজন্য বনাম কেন্দ্রের ঔদ্ধত্য: অভিষেক এদিন কড়া ভাষায় তুলনা টেনে বলেন, “রেলে একের পর এক দুর্ঘটনায় শয়ে শয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে, কিন্তু রেলমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা দেখতে পাইনি। কুম্ভ মেলায় বড় ঘটনা ঘটে গেলেও সেখানকার মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চাননি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অহংকার বা ঔদ্ধত্য নেই। উনি স্বীকার করেছেন রাজ্য প্রশাসনের ভুল ছিল এবং মানুষের কাছে মাথা নত করে ক্ষমা চেয়েছেন।”

আদিখ্যেতা ও বাংলার সম্মান: আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার মাথা হেঁট হওয়ার জন্য কয়েকজনের ‘আদিখ্যেতা’ ও আচরণকে দায়ী করেছেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য:

  • বাংলাকে ফুটবলের মক্কা বলা হয়, কিন্তু কয়েকজনের আচরণের জন্য সেই ঐতিহ্য ধাক্কা খেয়েছে।

  • যাঁরা দর্শকদের নিরাশ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে।

  • উদ্যোক্তাদের গাফিলতি ছিল এবং সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ভক্তদের আবেগের পাশে অভিষেক: যাঁরা পুজোর জামা না কিনে টাকা জমিয়ে মেসিকে দেখতে এসেছিলেন, তাঁদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে অভিষেক বলেন, “সমর্থকদের রাগ হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। যাঁরা নিরাশ হয়েছেন, তাঁদের আবেগকে আমরা সম্মান করি। তদন্ত চলছে, এই ঘটনায় যাঁরই যোগসাজশ থাকুক না কেন, রাজ্য সরকার কাউকেই ছাড়বে না।”

রাজনীতি না করার আবেদন: বিরোধীদের নিশানা করে অভিষেক বলেন, এই দুঃখজনক ঘটনা নিয়ে যাঁরা রাজনীতি করছেন, তাঁরা আসলে বাংলাকে ছোট করছেন। এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে এমন না ঘটে, প্রশাসন সেই চেষ্টাই করছে।

সম্পাদকের নোট: অভিষেকের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, সরকার এই ঘটনার দায় এড়াচ্ছে না, কিন্তু একইসঙ্গে বিষয়টিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy